News Flash

  • Home
  • দিনের খবর
  • দিল্লিতে ১২৮ কোটি টাকার জিএসটি জালিয়াতি চক্র ফাঁস, গ্রেফতার ৬
Image

দিল্লিতে ১২৮ কোটি টাকার জিএসটি জালিয়াতি চক্র ফাঁস, গ্রেফতার ৬

নয়াদিল্লি, ১৬ মে (আইএএনএস): প্রায় ১২৮ কোটি টাকার ভুয়ো জিএসটি বিল এবং প্রতারণামূলক ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (আইটিসি) দাবির সঙ্গে যুক্ত একটি বড় জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস করল দিল্লি পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা (ইওডব্লিউ)। ঘটনায় ছয় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছে পুলিশ।

ইওডব্লিউ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুয়ো সংস্থা ও শেল কোম্পানি তৈরি করে কোনও প্রকৃত পণ্য বা পরিষেবা সরবরাহ ছাড়াই জাল জিএসটি বিল তৈরি করা হত। তদন্তে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০টি শেল কোম্পানির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, যেগুলির মাধ্যমে ভুয়ো লেনদেন এবং নগদ অর্থের কারবার চালানো হত।

অভিযানে পুলিশ ৫১.১২ লক্ষ টাকা নগদ, ১৫টি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ, জাল সিল, ভুয়ো নথি, একাধিক সিম কার্ড, জাল ইনভয়েস এবং দুটি গাড়ি উদ্ধার করেছে।

২৪ মার্চ অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা-এ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তির পরিচয়পত্র ও আর্থিক নথি ব্যবহার করে ‘এম/এস আর.কে. এন্টারপ্রাইজেস’ নামে একটি ভুয়ো মালিকানাধীন সংস্থা তৈরি করা হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওই ব্যক্তির আধার, প্যান কার্ড, বিদ্যুতের বিল এবং বায়োমেট্রিক তথ্য তাঁর অজান্তেই ব্যবহার করা হয়।

এই সংস্থার মাধ্যমে ১২৮ কোটিরও বেশি টাকার লেনদেন হয়েছে এবং প্রায় ১০ কোটি টাকার ভুয়ো ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

ডিজিটাল তথ্য, জিএসটি রেকর্ড, ব্যাঙ্ক লেনদেন ও প্রযুক্তিগত নজরদারির ভিত্তিতে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, দিলীপ কুমার এবং রাজ কুমার দীক্ষিত এই চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী।

পরে তদন্তে আরও উঠে আসে যে, অমর কুমার, বিভাষ কুমার মিত্র, নীতিন বর্মা, মহম্মদ ওয়াসিম এবং আবিদ ভুয়ো সংস্থা পরিচালনা, জাল লেনদেন এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের মাধ্যমে এই চক্রে যুক্ত ছিলেন।

১৫ মে দিল্লি-এনসিআর-এর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে তল্লাশি চালিয়ে রাজ কুমার দীক্ষিত, অমর কুমার, বিভাষ কুমার মিত্র, নীতিন ভার্মা, মো. ওয়াসিম এবং আবিদ-কে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তকারীদের দাবি, রাজ কুমার দীক্ষিত এই চক্রের মূল মাথা। মাত্র নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও তিনি দারিয়াগঞ্জে বসে বিশাল ভুয়ো ইনভয়েস চক্র চালাতেন।

অভিযোগ, তিনি প্রায় ২৫০টি শেল কোম্পানি তৈরি করে জাল জিএসটি লেনদেন ও ভুয়ো আইটিসি দাবির নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। অর্থের উৎস গোপন করতে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল নম্বর ও মধ্যস্থতাকারীদের ব্যবহার করা হত।

পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কোষাগারে বিপুল ক্ষতির কারণ হওয়া এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং কারা সুবিধাভোগী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Releated Posts

বিহারের পূর্ণিয়ায় জমি-বিবাদ ঘিরে ভয়াবহ সংঘর্ষ, আক্রান্ত পুলিশ দল; বহু আহত

পাটনা, ১৬ মে (আইএএনএস): বিহারের পূর্ণিয়া জেলার ধামদাহা থানার অন্তর্গত আন্দিটোলা গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই…

ByByNews Desk May 16, 2026

ওড়িশায় জ্বালানির সংকট নেই, আতঙ্কিত হবেন না: খাদ্য ও ভোক্তা কল্যাণমন্ত্রী

ভুবনেশ্বর, ১৫ মে (আইএএনএস): ওড়িশায় পেট্রল ও ডিজেলের কোনও ঘাটতি নেই বলে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করলেন খাদ্য সরবরাহ ও…

ByByNews Desk May 15, 2026

রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে উচ্ছেদ নয়: কলকাতা হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়

কলকাতা, ১৪ মে (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে তার বাড়ি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্ছেদ করা যাবে…

ByByTaniya Chakraborty May 14, 2026

ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির জন্যই ইউসিসির বিরোধিতা করছে কংগ্রেস: অসম বিজেপি সভাপতি দিলীপ সাইকিয়া

গুয়াহাটি, ১৪ মে (আইএএনএস): অসমে প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) কার্যকর করার বিরোধিতা কংগ্রেস…

ByByTaniya Chakraborty May 14, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top