নয়াদিল্লি, ১৬ মে (আইএএনএস): ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘মাদকমুক্ত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সম্প্রতি অমিত শাহ গবেষণা ও বিশ্লেষণ শাখার আর এন কাও স্মারক বক্তৃতায় সরকারের এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
নিরাপত্তা ও মাদকবিরোধী সংস্থাগুলির মতে, একাধিক আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চক্র ভারতে মাদক পাচারের চেষ্টা করছে। জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্রে মাদকচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হলেও এখন নতুন উদ্বেগের কেন্দ্র হয়ে উঠছে কেরল।
কর্তাদের মতে, পাঞ্জাব বা জম্মু-কাশ্মীরে যে ধরনের প্রচলিত পদ্ধতিতে মাদক পাচার চলত, তার সঙ্গে কেরলের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। এখানে পাচারকারীরা বারবার পদ্ধতি বদলাচ্ছে, ফলে তদন্তকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জও বাড়ছে।
আগে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে ভারতে মাদক ঢুকে সড়কপথে কেরলে পৌঁছত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যাচ্ছে, বর্তমানে বিশেষ করে হেরোইনের বড় অংশ আসছে মিয়ানমার থেকে।
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রচলিত রুটে পাচার কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে মাদকচক্র ধীরে ধীরে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবহার করছে। অভিযোগ, পাকিস্তানি মাদকচক্র মিয়ানমারের গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে মাদক ভারতে ঢোকাচ্ছে, এরপর তা সড়কপথে কেরলে পৌঁছচ্ছে।
এক আধিকারিকের কথায়, “কেরলে এমডিএমএ-র পাশাপাশি হেরোইনের চাহিদা ও মুনাফা দুটোই অত্যন্ত বেশি। এক কেজি হেরোইনের দাম ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার মধ্যে। পাচারকারীরা প্রতি গ্রাম ৩ হাজার টাকায় কিনে বাজারে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করছে।”
মাদক লুকিয়ে পাচারের পদ্ধতিও ক্রমশ বদলাচ্ছে। কখনও সাবানের বাক্সে, কখনও ছোট বোতলে লুকিয়ে খুব অল্প পরিমাণে মাদক আনা হচ্ছে, যাতে ধরা পড়ার ঝুঁকি কমে।
এই কৌশলের প্রমাণ মেলে কেরলের আঙ্গামালিতে। অসমের তিন ব্যক্তিকে ৬০০ গ্রাম হেরোইন-সহ গ্রেফতার করা হয়, যা ৪০টিরও বেশি সাবানের বাক্সে লুকোনো ছিল।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মালাবার করিডোর এখন মাদক পাচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হয়ে উঠছে। বিশেষত কোঝিকোড এলাকায় এমডিএমএ-র বড় চালান উদ্ধার হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এখন সিন্থেটিক মাদক এমডিএমএ-র চাহিদা গাঁজাকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।
কেরলের এই অঞ্চলটি বেঙ্গালুরু-মাইসুরু করিডোর-এর কাছাকাছি হওয়ায় পাচারকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি তামিলনাড়ু, কর্নাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশের সঙ্গে একাধিক আন্তঃরাজ্য সড়ক সংযোগ থাকায় মাদক পরিবহনও সহজ হচ্ছে।
তদন্তকারীরা আরও দেখেছেন, এখন পাচারের কাজে প্রভাবশালী ব্যক্তি, মহিলা এবং সামাজিক মাধ্যমের প্রভাবশালীদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে।
গত মাসে কেরলের পান্থিরানকাভু টোল প্লাজায় ৩ কোটি টাকার ৩.৫ কেজি এমডিএমএ-সহ একটি গাড়ি আটক করা হয়। ঘটনায় ২০ বছরের সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ফাতিমা নাসরিন এবং অভিযুক্ত পি কে শফিককে গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়াও কোঝিকোড়ে এক অভিযানে ১১.৮৩ কেজি এমডিএমএ এবং গাঁজা-সহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। গত বছর কোচিতেও এক ইউটিউবার-সহ কয়েকজনকে এমডিএমএ-সহ গ্রেফতার করা হয়েছিল।
কর্তাদের মতে, মাদকচক্রের এই পরিবর্তিত কৌশল কেরলে মাদকবিরোধী লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলছে। তাদের দাবি, এই পদ্ধতির সঙ্গে অতীতে গুপ্তচর নেটওয়ার্ক বিস্তারে ব্যবহৃত কিছু কৌশলের মিল পাওয়া যাচ্ছে।



















