গির সোমনাথ, ১১ মে (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার গুজরাটের প্রভাস পাটণে অনুষ্ঠিত ‘সোমনাথ অমৃত মহোৎসব’-এ যোগ দিয়ে সোমনাথ মন্দির-কে ভারতের “অবিনাশী চেতনা” এবং “সভ্যতার আত্মসচেতনতার” প্রতীক বলে উল্লেখ করলেন।
সোমনাথ মন্দিরে বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ধ্বংস ও আক্রমণের মুখেও এই মন্দির বারবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে, যা ভারতের অদম্য শক্তির প্রতীক।
বক্তব্যের শুরুতে “জয় সোমনাথ” এবং “হর হর মহাদেব” ধ্বনি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ প্রভাস পাটণের পরিবেশ এক বিশেষ উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, মহাদেবের এই ঐশ্বরিক উপস্থিতি, চারদিকে সৌন্দর্যের আবহ, আকাশ ও মাটি থেকে ফুলের বর্ষণ, গেরুয়া পতাকার দীপ্তি, শিল্প-সংগীত-নৃত্যের অপূর্ব পরিবেশনা, বেদমন্ত্রের ধ্বনি, গর্ভগৃহে নিরন্তর শিব পঞ্চাক্ষর মন্ত্রোচ্চারণ এবং সমুদ্রের গর্জন সব মিলিয়ে যেন সমগ্র সৃষ্টি একসঙ্গে উচ্চারণ করছে, ‘জয় সোমনাথ! জয়-জয় সোমনাথ!’
প্রধানমন্ত্রী জানান, পুনর্নির্মিত সোমনাথ মন্দিরে মহাদেবের প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে, যা “সহস্র বছরের অমর যাত্রার” প্রতিফলন।
তিনি বলেন, দাদা সোমনাথের একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে আমি বহুবার এখানে এসেছি এবং অসংখ্যবার প্রণাম করেছি। কিন্তু আজ এখানে আসার সময় ইতিহাসের দীর্ঘ যাত্রাপথ আমাকে গভীর আবেগে ভরিয়ে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সোমনাথ মন্দিরে অতীতে হওয়া একাধিক আক্রমণের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, মাহমুদ গজনি এবং আলাউদ্দিন খিলজির মতো আক্রমণকারীরা বারবার এই মন্দির ধ্বংসের চেষ্টা চালিয়েছিল।
মোদীর কথায়, লুটেরারা সোমনাথ মন্দিরের গৌরব মুছে ফেলতে চেয়েছিল। তারা সোমনাথকে কেবল একটি স্থাপত্য হিসেবে দেখেছিল এবং বারবার আক্রমণ করেছিল। কিন্তু প্রতিবার ধ্বংসের পরেও এই মন্দির আবার উঠে দাঁড়িয়েছে, কারণ যারা ধ্বংস করতে চেয়েছিল তারা কখনও আমাদের জাতির ভাবাদর্শিক শক্তিকে বুঝতে পারেনি।
ভারতের আধ্যাত্মিক দর্শনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংস্কৃতিতে আত্মাকে অমর বলে মনে করা হয়। আর শিব হলেন সেই সর্বব্যাপী আত্মা।
সোমনাথ মন্দিরের পুনর্গঠন ও সংরক্ষণে অবদান রাখা একাধিক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাজা ভোজ, রাজা ভীমদেব প্রথম, রাজা কুমারপাল, অহিল্যাবাই হোলকর, বরোদার গায়কোয়াড় রাজবংশ এবং জাম সাহেব মহারাজা দিগ্বিজয়সিংহ জাডেজা।
তিনি আরও বলেন, প্রভাস পাটণের শৈব ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত সাধক, পণ্ডিত ও মনীষীদের উত্তরাধিকার আজও আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে।
তীর্থস্থানগুলিকে “অর্থনৈতিক অগ্রগতির উৎস” বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, কেন্দ্র সরকার চারধাম হাইওয়ে, কর্তারপুর করিডর এবং বৌদ্ধ সার্কিটের মতো প্রকল্পের মাধ্যমে ধর্মীয় পর্যটন ও অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়েছে।
সোমনাথকে ঘিরে সাম্প্রতিক উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন এখানে ‘সি ভিউয়িং পাথ’, পর্যটক সহায়তা কেন্দ্র এবং প্রদর্শনী গ্যালারি তৈরি হয়েছে। পুরনো সোমনাথ শহরকেও নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।
শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোমনাথ অমৃত মহোৎসব এমন এক ভারতের সংকল্প, যে দেশ নিজের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত থেকেও আধুনিকতার শিখরে পৌঁছতে প্রস্তুত।
তিনি আরও যোগ করেন, সোমনাথ মন্দির আমাদের শেখায় যে সত্যকে চাপা দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু মুছে ফেলা যায় না। বিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে, কিন্তু পরাজিত করা যায় না।



















