আগরতলা, ১১ মে : কেন্দ্রের বিজেপি সরকার শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থবিরোধী “কালো শ্রমকোড” কার্যকর করার পথে এগোচ্ছে বলে তীব্র অভিযোগ তুলল প্রদেশ কংগ্রেস। সোমবার এক বিবৃতিতে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র দাবি করে, পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হতেই কেন্দ্র সরকার ৮ মে ২০২৬ থেকে শ্রমকোডের কেন্দ্রীয় বিধি কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে, যা দেশের শ্রমিক, কৃষিজীবী ও কর্মপ্রার্থীদের অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত।
তাঁর দাবি, ২০১৯-২০ সালে সংসদে শ্রমকোড বিল পাশ হওয়ার পর ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর আইন হিসেবে ঘোষণা করা হলেও বিহার বিধানসভা নির্বাচনের কারণে এতদিন তার খসড়া বিধি প্রকাশ করা হয়নি। নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই কেন্দ্র সরকার সেই বিধি প্রকাশ করেছে।
প্রবীর চক্রবর্তীর অভিযোগ, নতুন শ্রমকোডে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২১ হাজার টাকার পরিবর্তে মাত্র ৪ হাজার ৬২৮ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০০ জনের কম শ্রমিক কর্মরত এমন প্রতিষ্ঠানে সহজেই শ্রমিক ছাঁটাই, মজুরি হ্রাস এবং নিরাপত্তাজনিত ক্ষতিপূরণ নিয়োগকর্তার ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়াও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১১ নম্বর ধারার মাধ্যমে শ্রমিক আন্দোলন দমনের ব্যবস্থাও শ্রমকোডে যুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তিনি বলেন, বিজেপি সরকার কার্যত দেশের এক শতাংশ ধনী মানুষের স্বার্থরক্ষায় কাজ করছে এবং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষকে সরকারি খয়রাতির উপর নির্ভরশীল করে রাখার পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ত্রিপুরায় সরকারি চাকরির সুযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মসংকট ও আর্থিক দুরবস্থা ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। গত মাসে সরকারি তথ্য অনুযায়ী রাজ্যে রেগায় মাত্র ৪০ দিনের কাজ হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রদেশ কংগ্রেস “কালো শ্রমকোড” সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, সংবিধানের যুগ্ম তালিকার ২১, ২২ ও ২৩ নম্বর বিষয় অনুযায়ী শ্রম সংক্রান্ত সংশোধনী আনার ক্ষমতা রাজ্যের রয়েছে। সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষায় শ্রমকোডে বাস্তবসম্মত সংশোধন আনার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।



















