নয়াদিল্লি, ১১ মে(আইএএনএস): ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি শুধু শুল্ক কমানোর বিষয় নয়, বরং একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ—এমনই মন্তব্য করলেন পর্তুগালের অর্থনীতি বিষয়ক স্টেট সেক্রেটারি জোয়াও রুই ফেরেইরা।
তিনি বলেন, এই চুক্তি ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ব্যবসার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করবে।
সোমবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, “পর্তুগাল শুরু থেকেই এই চুক্তিকে সমর্থন করছে। আমরা আশাবাদী, এটি শিগগিরই সম্পন্ন হবে—সম্ভবত ২০২৭ সালের মধ্যে।”
তিনি আরও বলেন, এই চুক্তি কেবল শুল্ক নিয়ে নয়, বরং ধারাবাহিকতা, স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পূর্বানুমানযোগ্যতার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, এটি দুই পক্ষের কোম্পানিগুলোর জন্য আরও শক্তিশালী ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করবে।
ভারতকে বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটি দ্রুত তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। এই অবস্থান ভারতকে বৈশ্বিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এই রূপান্তরপর্বে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।”
পর্তুগাল ও ভারতের দীর্ঘদিনের ভালো রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ফেরেইরা বলেন, এখন দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করার সময় এসেছে।
তিনি ভারতের ‘ভিশন ২০৪৭’ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ও পুনঃশিল্পায়নের উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে অভিহিত করেন। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ ভারতের নাগরিকদের জীবনমান উন্নত করবে।
এআই ও ডিজিটাল অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পর্তুগাল STEM শিক্ষা, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং এখন এই দক্ষতাকে বাস্তব অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তর করা হচ্ছে।
তিনি জানান, পর্তুগাল ডিজিটালভাবে অত্যন্ত সংযুক্ত দেশ এবং সাবমেরিন কেবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত।
শক্তি খাতেও পর্তুগাল প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে, যা এআই যুগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি ডেটা সেন্টার উন্নয়নের জন্য জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, “এআই এখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কৌশলগত সার্বভৌমত্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। পর্তুগালের কাছে প্রয়োজনীয় প্রতিভা, অবকাঠামো এবং নীতি রয়েছে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার জন্য।”
ভারতীয় ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পর্তুগাল একটি উন্মুক্ত ও ব্যবসাবান্ধব দেশ, যেখানে ইউরোপ ও পর্তুগিজভাষী বাজারে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।



















