বড়োদরা, ১১ মে (আইএএনএস): বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং তার সরাসরি প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতে পড়ছে বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের উপর ভারতের নির্ভরতা ও সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন গুজরাটের বড়োদরায় অনুষ্ঠিত এক কর্মসূচিতে, যা সরদারধাম উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বর্তমানে একাধিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রথমে কোভিড-১৯ সংকট, তারপর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং এখন পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা—সব মিলিয়ে বিশ্ব এক জটিল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতির প্রভাব ভারতসহ প্রতিটি দেশেই পড়ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কোভিড মহামারিকে যদি “এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় সংকট” বলা হয়, তবে বর্তমান পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিও এই দশকের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ছে। এই ব্যাঘাত বিভিন্ন খাতে মূল্য এবং সরবরাহকে প্রভাবিত করছে, বলেন তিনি।
অপরিশোধিত তেলের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত এখনও ব্যাপকভাবে আমদানির উপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, ভারতকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয় অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য। তিনি আরও বলেন, তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়ায় পরিস্থিতি আরও চাপের মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের কিছু ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সবাইকে কিছু ছোট ছোট যৌথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি গণপরিবহন, মেট্রো পরিষেবা, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং কারপুলিং ব্যবহারের উপর জোর দেন। তাঁর মতে, জ্বালানি খরচ কমালে বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ কমবে। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভার্চুয়াল মিটিং এবং ওয়ার্ক ফ্রম হোম ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা উচিত, যাতে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমে।
শেষে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগ যদি জাতীয় পর্যায়ে একত্রিত হয়, তবে তা বাইরের অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বড় ভূমিকা নিতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যেমন আমরা অতীতের অন্যান্য সংকটেও থেকেছি।



















