নয়াদিল্লি, ১১ মে (আইএএনএস): মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জন্য অনুষ্ঠিত নিট ইউজি পরীক্ষায় কথিত দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সোমবার কেন্দ্রের মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক ও ওয়েনাড়ের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, পরীক্ষায় দুর্নীতি ও অনিয়ম রুখতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্র সরকার, যার ফলে দেশের যুব সমাজের ভবিষ্যৎ বিপদের মুখে পড়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ করা এক পোস্টে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, বিজেপি শাসনে গত কয়েক বছরে পরীক্ষায় লাগামছাড়া দুর্নীতি দেশের যুবকদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নিচ্ছে। এ বারও প্রায় ২৩ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিটের মতো পরীক্ষার জন্য ছাত্রছাত্রীরা কঠোর পরিশ্রম করে। অভিভাবকরাও নিজেদের সর্বস্ব বাজি রাখেন সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে। কিন্তু প্রতিটি পরীক্ষাই দুর্নীতির শিকার হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে সংসদে যে কঠোর আইন আনা হয়েছে, তা হলে মাটির স্তরে একই দুর্নীতি কেন চলছে?
কংগ্রেস সাংসদ প্রশ্ন তোলেন, দেশের যুবসমাজের কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জবাবদিহি করবেন না? আর কত দিন এ ভাবে যুবকদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হতে থাকবে?
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এই মন্তব্য আসে একদিন পর, যখন ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) জানায় যে তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। রাজস্থান স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপের তদন্তে নিট (ইউজি) ২০২৬ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এনটিএ এক সরকারি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৩ মে অনুষ্ঠিত মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা “নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী এবং পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেই” সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার সময় একাধিক স্তরে নজরদারি ও যাচাই ব্যবস্থা কার্যকর ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।
সংস্থার দাবি, পরীক্ষার চার দিন পরে অর্থাৎ ৭ মে তারা সম্ভাব্য অনিয়ম সংক্রান্ত কিছু তথ্য পায়। এরপর ৮ মে সকালে সেই তথ্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির কাছে পাঠানো হয় স্বাধীন যাচাই ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য।
এনটিএ আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যমে যে আটক ও অভিযানের খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা তদন্তকারী সংস্থাগুলির “দ্রুত ও পেশাদার পদক্ষেপের” ফল।
রাজস্থানে তদন্তকারীরা অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন যে পরীক্ষার আগে ছড়িয়ে পড়া একটি “গেস পেপার”-এর বহু প্রশ্ন আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে গিয়েছিল।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ দিল্লি-এনসিআরের বিভিন্ন হোটেল থেকে ১৮ জন নিট পরীক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে। অভিযোগ, একটি চক্র তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা করে নিয়ে ম্যানেজমেন্ট ও অন্যান্য কোটার মাধ্যমে নিশ্চিত এমবিবিএস আসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। পরীক্ষার্থীদের আটকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ।
৩ মে নিট পরীক্ষার আগের দিন উদ্ধার হওয়া ওই ১৮ জন পরীক্ষার্থীকে পরে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয় পুলিশ।



















