কলকাতা, ১১ মে (আইএএনএস): আগামী ১ জুন থেকে রাজ্য সরকারের ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়তে শুরু করবে বলে সোমবার জানিয়েছেন এক রাজ্য সরকারি আধিকারিক।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের জন্য ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
নতুন সরকারের প্রথম কর্মদিবসেই সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের উদ্যোগ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । সোমবার নবান্নে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালুর দিন ঘোষণা করে।
একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, আগামী ১ জুন থেকে সরকারি বাসে যাতায়াতের জন্য মহিলাদের কোনও ভাড়া দিতে হবে না।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী মহিলাদের জন্য ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নির্বাচনে জয়ের পর সেই প্রকল্প চালু করা হয়।
প্রথমদিকে ওই প্রকল্পে প্রতি মহিলাকে মাসে ৫০০ টাকা করে দেওয়া হত। পরে ধাপে ধাপে সেই আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হয়। আগের রাজ্য সরকারের শেষ বাজেটে সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের জন্য ভাতা বাড়িয়ে মাসে ১,৫০০ টাকা করা হয়। তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের মহিলাদের জন্য সেই পরিমাণ ছিল ১,৭০০ টাকা।
তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি একই ধরনের সামাজিক প্রকল্পকে হাতিয়ার করে তৃণমূল সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানায়। বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারে মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করতে মাসে ৩,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অমিত শাহ প্রায় প্রতিটি জনসভায় ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর প্রসঙ্গ তোলেন। পাশাপাশি মহিলা ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাত্রার প্রতিশ্রুতিও দেন।
সোমবার রাজ্য সরকার জানিয়েছে, সেই প্রতিশ্রুতিও কার্যকর করা হবে। আগামী ১ জুন থেকে মহিলারা সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, দিল্লিতে প্রথম এই ধরনের পরিষেবা চালু করেছিল অরবিন্দ কেজরিওয়াল-র সরকার। পরে দিল্লিতে সরকার পরিবর্তন হলেও বিজেপি সরকার সেই সুবিধা বহাল রেখেছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁরা আগে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সুবিধা পেতেন, তাঁরাই এখন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর অধীনে মাসে ৩,০০০ টাকা পাবেন।
এ মুহূর্তে নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে কোনও অতিরিক্ত তথ্য বা নথির প্রয়োজন হলে সরকার উপভোক্তাদের সেই বিষয়ে জানিয়ে দেবে।



















