নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ মে: চাকরি নিয়মিতকরণ, বেতন বৃদ্ধি এবং আর্থিক নিরাপত্তার দাবিতে এবার সরব হলেন ত্রিপুরা রাজ্যের বিভিন্ন ব্লকে কর্মরত এমজিএনরেগা কর্মচারীরা। সোমবার অল ত্রিপুরা এমজিএনরেগা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সালেমা আরডি ব্লকের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও)-এর নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০০৬ সাল থেকে এমজিএনরেগা প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন পদে কর্মরত কর্মচারীরা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও এখনও তাঁদের চাকরি স্থায়ীকরণ, উপযুক্ত বেতন কাঠামো এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি বলে অভিযোগ তোলা হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান বাজারে লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির ফলে স্বল্প বেতনে পরিবার পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ কর্মচারীর পরিবারে পাঁচ থেকে ছয়জন সদস্য থাকায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নির্বাহ করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে বলে দাবি সংগঠনের।
কর্মচারীদের অভিযোগ, ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর সরকার এমজিএনরেগা কর্মীদের বেতন কাঠামো সংশোধন করলেও সেখানে স্নাতক, ডিপ্লোমা ও আন্ডার-গ্র্যাজুয়েট কর্মীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়েছে। একই পদে কাজ করেও সমান বেতন না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
এদিনের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন কালীপদ দাস, প্রসেনজিৎ সিনহা, সুবিনয় পাল, সুকান্ত দেবনাথ, শেলি কর সহ অন্যান্য সদস্যরা।
সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে— যোগদানের তারিখ থেকে চাকরি নিয়মিতকরণ, বেতন বৃদ্ধি ও পঞ্চায়েত দপ্তরের অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বিত বেতন কাঠামো চালু, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা, অবসর গ্রহণের বয়সসীমা কমপক্ষে ৬৫ বছর নির্ধারণ এবং সরকারি কর্মচারীদের মতো মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ঘোষণার ক্ষেত্রে এমজিএনরেগা কর্মীদেরও একই সুবিধা প্রদান।
সংগঠনের দাবি, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে রাজ্যের গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তাঁরা এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দ্রুত তাঁদের দাবিগুলি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।



















