কলকাতা, ১০ মে (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীদের পালানোর রুট চিহ্নিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, মধ্যমগ্রামের দোহরিয়া-মাঠপাড়া সংলগ্ন যে রাস্তা দিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে গিয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে, সেই এলাকার বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা দীর্ঘদিন ধরেই অকেজো অবস্থায় রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহরিয়া এলাকায় চন্দ্রনাথ রথ-এর গাড়ি মাঝরাস্তায় আটকে দুষ্কৃতীরা গুলি চালায়। হামলার পর মোটরবাইকে চেপে একটি গলি রাস্তা ধরে পেয়ারা বাগানের দিকে পালিয়ে যায় তারা। সেই রুটে তল্লাশি চালানো হলেও কার্যকর সিসিটিভি না থাকায় তদন্তে বড় বাধা তৈরি হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, এলাকার বহু সিসিটিভি দীর্ঘদিন ধরে খারাপ। আবার কিছু ক্যামেরা আলোর খুঁটিতে এমনভাবে লাগানো ছিল যে সেগুলি থেকে স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়নি। ফলে হামলাকারীদের গতিবিধির পরিষ্কার ফুটেজ মেলেনি। রাস্তার ধারের দোকানগুলির ক্যামেরাও কোনও সূত্র দিতে পারেনি, কারণ ঘটনার সময় অধিকাংশ দোকান বন্ধ ছিল।
তদন্তকারী দলের একাংশের অনুমান, পরিকল্পনা করেই অন্ধকার নামার পর হামলা চালানো হয়েছিল যাতে বাইকে পালানোর সময় দুষ্কৃতীদের মুখ বা গাড়ির নম্বর স্পষ্টভাবে ধরা না পড়ে।
এদিকে, তদন্তে নতুন রহস্য হিসেবে উঠে এসেছে একটি লাল রঙের গাড়ির উপস্থিতি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বিরাটি মোড় থেকে যশোর রোড হয়ে দোহরিয়া এলাকায় ঢোকার সময় পর্যন্ত গাড়িটি চন্দ্রনাথ রথ-এর স্করপিও গাড়ির পিছু নিয়েছিল। তদন্তকারীদের সন্দেহ, শুরু থেকেই গাড়িটি রথকে অনুসরণ করছিল। সেই গাড়ির খোঁজে জোর তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনাটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে।



















