কলকাতা, ৯ মে (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালেই একে “ঐতিহাসিক ভোর” বলে উল্লেখ করলেন রাজ্যের হতে চলা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র উপস্থিতিতে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের মুহূর্ত নয়, বরং বাংলার নতুন যাত্রার সূচনা।
অধিকারীর বক্তব্য, গত ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের “অপশাসনের” অবসান ঘটিয়ে এই অনুষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গকে উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সূচনা করবে। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকার ফলে “ডাবল ইঞ্জিন” উন্নয়নের নতুন যুগ শুরু হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
শনিবার সকালে সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় অধিকারী লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের জন্য সত্যিই এক ঐতিহাসিক ভোর। দূরদর্শী নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজিকে সিটি অফ জয়-এ স্বাগত জানাতে পেরে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত। স্বাধীনতার পর এই প্রথম বাংলায় বিজেপি সরকার শপথ নিচ্ছে, যা আমাদের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের স্বপ্নপূরণ। আজ বহু দশকের অপশাসনের অবসান এবং উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির ‘ডাবল ইঞ্জিন’ যুগের সূচনা। ‘সোনার বাংলা’-র নতুন অধ্যায় আজ থেকেই শুরু।”
মধ্য কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ শনিবার এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বসু নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
এই অনুষ্ঠান থেকেই স্পষ্ট হবে নতুন মন্ত্রিসভায় অধিকারীর সহকর্মীরা কারা হচ্ছেন। জানা গিয়েছে, নতুন সরকার হাওড়ার নবান্নের বদলে মধ্য কলকাতার ঐতিহ্যবাহী লেখকদের ভবন থেকেই প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করবে। উল্লেখ্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী নবান্ন থেকেই প্রশাসন পরিচালনা করতেন।
শুক্রবারই অধিকারী স্পষ্ট করেছিলেন যে, তিনি একক সিদ্ধান্তে সরকার পরিচালনা করবেন না। তাঁর কথায়, “আমি নয়, আমরা মিলে রাজ্য পরিচালনা করব। মন্ত্রিসভার সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই সরকার চলবে। পাশাপাশি কেন্দ্র-রাজ্যের সুসম্পর্ক ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই প্রশাসন পরিচালিত হবে।”



















