লখনউ, ৮ মে(আইএএনএস) : স্বাস্থ্য দফতরে দুর্নীতি ও গাফিলতির বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ নিল উত্তর প্রদেশ সরকার। শুক্রবার পাঁচজন চিকিৎসককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং এক মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সহ আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানান, স্বাস্থ্য পরিষেবায় অবহেলা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। রোগীদের জীবন নিয়ে কোনওরকম আপস করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
যাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গোরখপুর জেলা হাসপাতালের ডা. অলকানন্দা, কুশীনগরের ডা. রামজি ভারদ্বাজ, বালরামপুরের ডা. সৌরভ সিং, আমেঠির জগদীশপুর সিএইচসি-র ডা. বিক্লেশ কুমার শর্মা এবং ঔরাইয়ার ডিবিয়াপুর সিএইচসি-র ডা. মনিকা ভার্মা। দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে এই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অম্বেডকর নগরে বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোম ও আল্ট্রাসাউন্ড কেন্দ্রের রেজিস্ট্রেশন ও নবীকরণে অনিয়মের অভিযোগে সিএমও ডা. সঞ্জয় কুমার শৈবল এবং ডেপুটি সিএমও ডা. সঞ্জয় ভার্মার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা এবং পদমর্যাদার অপব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
হারদৌই জেলার সন্দিলা মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. মনোজ কুমার সিংয়ের বিরুদ্ধে বেআইনি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়াও প্রয়াগরাজের মেজা সিএইচসি-র সুপারিনটেনডেন্ট ডা. শামিম আখতারকে বদলি করে তাঁর বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সুলতানপুর জেলায় এক মহিলা রোগীর চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে তৎকালীন লম্ভুয়া সিএইচসি সুপারিনটেনডেন্ট ডা. অনিল কুমার সিং, মেডিক্যাল অফিসার ডা. ধর্মরাজ এবং ফার্মাসিস্ট অবধনারায়ণের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মথুরা, বারাণসী, বদায়ুঁ, খেরি ও সম্ভল জেলার একাধিক স্বাস্থ্য আধিকারিকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগে তদন্ত চলছে। বদায়ুঁ সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অর্থোপেডিক্স বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. ঋতুজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে মহিলা চিকিৎসককে অপমানজনক ভাষায় হেনস্তার অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, বহু চিকিৎসকের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছে। হামিরপুরের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লালমণির বিরুদ্ধে গর্ভবতী মহিলাদের কাছ থেকে টাকা আদায় ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর তিনটি বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
ব্রজেশ পাঠক বলেন, সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। রোগীদের স্বার্থে ভবিষ্যতেও দোষী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















