কলকাতা, ২৭ এপ্রিল (আইএএনএস): ভোটের আগে হুগলি জেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। আরামবাগের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মিতালী বাগ সোমবার গোগাট এলাকায় হামলার মুখে পড়ে জখম হন। তিনি দলীয় সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে এই ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ, হামলায় তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং তিনি গাড়ির সামনের আসনে বসে থাকার সময় আঘাত পান। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি সমর্থকরাই এই হামলার পিছনে রয়েছে।
ঘটনার পর মিতালী বাগ বলেন, “দেখুন কীভাবে বিজেপির দুষ্কৃতীরা গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এখনও ভোট শুরুই হয়নি, তার আগেই একজন মহিলার কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা তৃণমূলকেই দায়ী করেছে। আরামবাগের প্রাক্তন বিজেপি সভাপতি ও পুরশুড়া কেন্দ্রের প্রার্থী বিমান ঘোষ দাবি করেন, তৃণমূল নেতা সঞ্জয় খানের নেতৃত্বে তাঁদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “প্রায় ২০ জন হাসপাতালে ভর্তি, প্রায় ৫০ জন আহত। বিজেপি প্রার্থীর গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। মিতালী বাগ ঘটনা ঢাকতে নাটক করছেন।”
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, মিতালী বাগ নিজের বাড়ি থেকে আরামবাগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন, সেই সময় গোগাট এলাকায় তাঁর গাড়ির উপর হামলা হয়।
ঘটনার পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে অভিযোগ করেন, বিজেপি কর্মীরাই তাঁর গাড়িতে হামলা চালিয়েছে। তাঁর কথায়, গাড়ির কাচ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে শরীরে লাগে।
তিনি বলেন, “গোগাট ও আরামবাগের মানুষ দেখুন কীভাবে আমার কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হচ্ছে। মহিলাদের উপর যেভাবে অত্যাচার চলছে, আমি মা-বোনদের একজোট হয়ে ভোট দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি। বিজেপি হার মানতে জানে না।”
এই ঘটনার জন্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, “নির্বাচন কমিশন আরামবাগে এসে বলেছিল তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতার করতে হবে। এখন এই ঘটনার দায় তাদেরই নিতে হবে।”
ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।


















