নয়াদিল্লি, ২৬ এপ্রিল (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে কংগ্রেস কর্মী দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়ের হত্যাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে গণতন্ত্র নয়, বরং “সন্ত্রাসের রাজত্ব” চলছে।
কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৪ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের পরবর্তী অশান্তির মধ্যে আসানসোলে দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়কে মারধর করা হয় এবং পরে তিনি মারা যান। দলের দাবি, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরাই এই হামলার সঙ্গে জড়িত।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, “ভোটের পর কংগ্রেস কর্মী দেবদীপ চট্টোপাধ্যায়কে তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীদের হাতে খুন করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। শোকাহত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। আজ পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র নয়, তৃণমূলের সন্ত্রাসের রাজত্ব চলছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভোটের পর বিরোধী কণ্ঠস্বরকে ভয় দেখানো, হামলা করা এবং নির্মূল করার ঘটনা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
রাহুল গান্ধী বলেন, “কংগ্রেস কখনও হিংসার রাজনীতি করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। আমরা আমাদের কর্মীদের হারিয়েছি, তবুও অহিংসা ও সংবিধানের পথেই চলেছি—এটাই আমাদের ঐতিহ্য।”
তিনি দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকল অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে এবং মৃত কর্মীর পরিবারের নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
কংগ্রেসের দাবি, দেবদীপ চট্টোপাধ্যায় আসানসোল উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতন্ডির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। দলের অভিযোগ, তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা তাঁকে মারধর করে হত্যা করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে, এই ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতির চিত্র তুলে ধরছে এবং বিরোধী কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। পাশাপাশি, এখনও পর্যন্ত এফআইআর দায়ের না হওয়ায় প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগও তুলেছে তারা।
কংগ্রেস জানায়, “ভয় ও হিংসার পরিবেশে গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। আমরা এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকব এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাব।”



















