নয়াদিল্লি, ২২ এপ্রিল (আইএএনএস): আই-প্যাক অফিসে তল্লাশি ঘিরে বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে তীব্র মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, চলমান তদন্তে এ ধরনের হস্তক্ষেপ গণতন্ত্রকে “বিপন্ন” করতে পারে।
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি এন. ভি. অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর দায়ের করা একাধিক আবেদনের শুনানির সময় এই মন্তব্য করে। ইডি অভিযোগ করেছে, কলকাতায় রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের অফিসে তল্লাশির সময় বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী ও কয়েকজন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
শুনানিতে আদালত মন্তব্য করে, “কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যদি তদন্তের মাঝখানে ঢুকে পড়েন, তাহলে তা গণতন্ত্রকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে। এটিকে শুধু রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে বিরোধ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”
আদালত আরও জানায়, বিষয়টি কেবল কেন্দ্র-রাজ্য বিরোধ নয়, বরং একজন ব্যক্তির আচরণ, যিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে আছেন, তা গোটা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।
অন্যদিকে, রাজ্য পুলিশের পক্ষে সওয়াল করে আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী যুক্তি দেন, ইডি এই বিষয়ে সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে আবেদন করতে পারে না এবং এটি কেন্দ্র-রাজ্য বিরোধ হিসেবে ১৩১ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় বিবেচিত হওয়া উচিত।
রাজ্য সরকারের পক্ষে অভিষেক মনু সিংভিও একই যুক্তি তুলে ধরেন। তবে আদালত এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি।
এর আগে ১৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের করা এফআইআরগুলিতে স্থগিতাদেশ দেয় এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ সমস্ত ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর হলফনামায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করতেই তিনি সীমিত সময়ের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন।
হলফনামায় বলা হয়েছে, ৮ জানুয়ারি তিনি লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাসভবন এবং বিধাননগরের আই-প্যাক অফিসে যান, যেখানে দলের নির্বাচনী কৌশল সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত ছিল।
তিনি জানান, ইডি আধিকারিকদের অনুরোধ করে কিছু ডিভাইস ও নথি উদ্ধার করে তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন এবং তল্লাশি প্রক্রিয়ায় কোনও বাধা সৃষ্টি করেননি।
এছাড়া, তৃণমূল বা দলের কোনও নেতা ওই কয়লা কেলেঙ্কারির মামলায় অভিযুক্ত নন বলেও দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইডির বিরুদ্ধে অসৎ উদ্দেশ্যে নির্বাচনের আগে এই তল্লাশি চালানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে আইনি ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।



















