ধর্মনগর, ২০ এপ্রিল: উত্তর জেলার ধর্মনগর মহকুমার পূর্ব রাধাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মা ও মেয়ের রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনায়। নিখোঁজ রয়েছেন প্রানকৃষ্ণ পালের স্ত্রী মন্টি পাল (৪০) এবং তাঁদের ৭ বছরের কন্যা রেশ্মি পাল। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার মন্টি পাল তাঁর কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে আগরতলায় বাবার বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। ধর্মনগর রেল স্টেশনে পৌঁছানোর পরই তাঁদের শেষবার দেখা যায়। এরপর থেকেই তাঁদের আর কোনও খোঁজ মেলেনি।
প্রানকৃষ্ণ পাল জানান, সেদিনই আগরতলা থেকে তাঁর শ্যালিকা ফোনে মন্টি পালের সঙ্গে কথা বলেন। সেই সময় মন্টি পাল স্টেশনে থাকার কথা জানান। কিন্তু ওই কথোপকথনের পর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে মা-মেয়ের কোনও সন্ধান মেলেনি, যা রহস্য আরও ঘনীভূত করছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি চালানো হলেও কোনও সূত্র মেলেনি। অবশেষে বাধ্য হয়ে প্রানকৃষ্ণ পাল ধর্মনগর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, ধর্মনগর রেল স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় তদন্ত কার্যত অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার মতো অবস্থায় পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর এমন অচলাবস্থা নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন—নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এমন চরম গাফিলতির দায় নেবে কে?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবুও এখনও পর্যন্ত নিখোঁজদের কোনও হদিস না মেলায় পরিবারের উদ্বেগ চরমে পৌঁছেছে।
অসহায় প্রানকৃষ্ণ পাল সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সকলের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন—কোনও সহৃদয় ব্যক্তি যদি মন্টি পাল বা রেশ্মি পালের সম্পর্কে সামান্যতম তথ্যও পেয়ে থাকেন, তাহলে অনুগ্রহ করে ৯৮৬২৩ ০৩২৩৭ অথবা ৭৫৮৬৯ ৪৯৮০০ নম্বরে দ্রুত যোগাযোগ করুন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এই ঘটনা প্রশাসনের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল রেল স্টেশনসহ জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার করুণ চিত্র। অবিলম্বে সিসিটিভি ব্যবস্থা সচল করা ও নিরাপত্তা জোরদার না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।



















