আগরতলা, ১৯ এপ্রিল: বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে সাংবাদিক সম্মেলন করল প্রদেশ কংগ্রেস। এদিন দলের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, গত এক দশকেরও বেশি সময়ে দেশে বেকারত্ব উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেকারত্বের হার প্রায় ৪৫ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যার মধ্যে শিক্ষিত যুবকদের একটি বড় অংশ রয়েছে, বিশেষত ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে।
কংগ্রেসের অভিযোগ, কর্মসংস্থানমুখী শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে শ্রমিক ছাঁটাই বেড়েছে, এমনকি তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়েছে। কৃষিক্ষেত্রে গভীর সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, প্রতিদিন গড়ে বহু কৃষক আত্মহত্যা করছেন।
মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে প্রভীর চক্রবর্তী বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। ২০১৩ সালের তুলনায় গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেলসহ জ্বালানির দাম প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য ৫-৬ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে এবং ওষুধের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ মানুষ এখন প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।
অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে অতি ধনী মানুষের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। একই সঙ্গে কর্পোরেটদের জন্য বিপুল ঋণ মুকুব ও করছাড় দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের উপর করের বোঝা বেড়েছে বলেও দাবি করেন।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস মুখপাত্র। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং প্রকৃত ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ছে। পাশাপাশি একাধিক রাজ্যে একই ভোটারের নাম একাধিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
নারী নিরাপত্তা ইস্যুতেও কেন্দ্রকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে নারীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ধর্ষণ, অপহরণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে নারী ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
মহিলা সংরক্ষণ বিল প্রসঙ্গে কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, সংসদে পাস হওয়া আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে কেন্দ্র গড়িমসি করছে। বর্তমান আসন সংখ্যা থেকেই ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করা সম্ভব ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে কংগ্রেস মুখপাত্র বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে সরাসরি সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনার ব্যবস্থা করা হোক, যাতে প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে উঠে আসে।
সর্বোপরি, বিভিন্ন অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শানিয়ে কংগ্রেস রাজ্যবাসীর সামনে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছে।



















