আগরতলা, ১১ এপ্রিল: আগরতলার শ্রী কৃষ্ণ মিশন স্কুলের নার্সারি বিভাগে শিশুদের ওপর নিগ্রহ, পেশাগত অসদাচরণ এবং অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী এবং প্রাথমিক শিক্ষার অধিকর্তার কাছে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন শিশুর অভিভাবক।
শিশুর বাবা ডাঃ প্রীতম দেবরায় ও মা ডাঃ পূজা দাস জানিয়েছেন, গত ৯ এপ্রিল তাদের তিন বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে স্কুলে এক চরম মানসিকভাবে আঘাতমূলক পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। অভিযোগ অনুযায়ী, নার্সারি ক্লাসের দ্বিতীয় দিনেই স্কুল কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে শিশুদের অভিভাবকদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করার একটি কঠোর নীতি কার্যকর করে। শিক্ষাবিদদের মতে, এই বয়সের শিশুদের নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের ধাপে ধাপে অভ্যস্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন হলেও, সেই নিয়ম উপেক্ষা করা হয়েছে বলে দাবি অভিভাবকদের।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শিশুদের কান্নাকাটি সত্ত্বেও তাদের জোরপূর্বক শ্রেণিকক্ষে আটকে রাখা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের সন্তান কান্নাকাটি করতে করতে ক্লাসরুম থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে এক কর্মী তাকে জোর করে টেনে ভিতরে নিয়ে যান। এই ঘটনা অভিভাবকদের সামনেই একাধিকবার ঘটে বলে তারা জানিয়েছেন।
এছাড়া, বিষয়টি নিয়ে স্কুলের ডিরেক্টরের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও অবমাননাকর আচরণ করেন বলে অভিযোগ। অভিভাবকদের দাবি, ডিরেক্টর তাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলেন, “আপনাকে ভেতরে কে আসতে দিয়েছে? বাইরে যান। আমি ৩৫ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছি, আমাকে শেখাতে আসবেন না।” এরপর অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মীরাও উত্তেজিত হয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ধাক্কাধাক্কি এবং মারধরের হুমকির ঘটনাও ঘটে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে অভিভাবকরা যখন সন্তানের খোঁজে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন, তখন তারা দেখেন প্রায় ২০–২৫ জন শিশুর জন্য মাত্র একজন হেল্পার দায়িত্বে রয়েছেন। শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল ও আতঙ্কজনক। অধিকাংশ শিশু কান্নাকাটি করছিল এবং এক শিশু তীব্র ভয় ও মানসিক চাপে বমি করে ফেলে বলেও অভিযোগে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর নিজেদের সন্তানের মানসিক সুস্থতার কথা বিবেচনা করে তাকে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। তবে এখনও সেখানে অধ্যয়নরত অন্যান্য শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
অভিযোগকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ও প্রাথমিক শিক্ষার অধিকর্তার কাছে একাধিক দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—শ্রী কৃষ্ণ মিশন স্কুলের নার্সারি বিভাগে অবিলম্বে পরিদর্শন ও তদন্ত, শিক্ষক-ছাত্র অনুপাত যাচাই, কর্মীদের পেশাগত ও মানসিক প্রশিক্ষণ মূল্যায়ন, শিশুদের সঙ্গে আচরণ সংক্রান্ত নিরাপত্তা নীতিমালা পুনর্বিবেচনা এবং সংশ্লিষ্ট ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি।
অভিভাবকদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুদের জন্য নিরাপদ, সহানুভূতিশীল এবং মানসিকভাবে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা। কিন্তু এই ঘটনায় সেই মৌলিক দায়িত্ব পালনে গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।



















