আগরতলা, ১১ এপ্রিল : কেরল, পুদুচেরি ও অসমে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের “আন্তর্জাতিক নির্বাচন দর্শনার্থী কর্মসূচি ২০২৬”-এর অংশ হিসেবে ২২টি দেশের ৩৮ জন প্রতিনিধি সরাসরি ভারতের নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা ভারতের ভোটগ্রহণকে “গণতন্ত্রের প্রকৃত উৎসব” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, বিপুল ভোটার উপস্থিতি, সূক্ষ্ম পরিকল্পনা এবং নির্বাচন কমিশনের নির্বিঘ্ন পরিচালনা সত্যিই প্রশংসনীয়।
ক্রোয়েশিয়ার প্রতিনিধি ব্রানিমির ফারকাস বলেন, “ভারতের ভোটদান সত্যিই বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের একটি উৎসব। মানুষের ভোট দেওয়ার আগ্রহ আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। এই বিশাল প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে, যা থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি।”
৮ ও ৯ এপ্রিল প্রতিনিধিরা অসম, কেরল ও পুদুচেরিতে সফর করেন। তাঁরা ডিসপ্যাচ ও বিতরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করে নির্বাচন সামগ্রী ও কর্মীদের সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে নিরাপত্তা ও পরিচালন ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা করেন।
সিইও দপ্তরে স্থাপিত কন্ট্রোল রুমে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা দেখে প্রতিনিধিরা স্বচ্ছতার দিকটি বিশেষভাবে প্রশংসা করেন। মেক্সিকোর প্রতিনিধি উউক-কিব এসপাদাস আনকোনা বলেন, “ভারতের নির্বাচন প্রক্রিয়া অবশ্যই শেখার মতো একটি দৃষ্টান্ত।”
ভোটের দিন প্রতিনিধিরা মক পোল থেকে শুরু করে বাস্তব ভোটগ্রহণ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করেন। অসমের কামরূপ (মেট্রো ও গ্রামীণ), কেরলের কোচি ও তিরুবনন্তপুরম এবং পুদুচেরির বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখেন তাঁরা।
ভোটকেন্দ্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থাপনা—র্যাম্প, হুইলচেয়ার, স্বেচ্ছাসেবক, ক্রেশ সুবিধা এবং নারী ও প্রতিবন্ধীদের দ্বারা পরিচালিত বিশেষ বুথ—প্রতিনিধিদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। নামিবিয়ার প্রতিনিধি পাউলুস শিগওয়েধা বলেন, “এই মাত্রার অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
এছাড়া জেলা স্তরের মিডিয়া মনিটরিং, ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে নজরদারি এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ যেমন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন প্রতিনিধিরা।
সিয়েরা লিওনের প্রতিনিধি আবুবাকর মাহমুদ কোরোমা ইভিএম ব্যবহারের প্রশংসা করে বলেন, “ভারতের একটি বড় শক্তি হলো ইভিএম। আমরা এখানে যা শিখেছি, তা আমাদের দেশেও প্রয়োগ করতে পারব।”
পুদুচেরিতে ফ্লাইং স্কোয়াড, ড্রোন নজরদারি এবং ‘নীলা’ নামের স্বাগত রোবট প্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কেরলে জেন-জি থিমযুক্ত ভোটকেন্দ্র এবং অসমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুবিধাসহ বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগও তাঁদের মুগ্ধ করে।
নির্বিঘ্ন ভোটগ্রহণ ও উচ্চ ভোটার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে। তাঁরা নির্বাচন কমিশনকে এই বিশাল নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং স্বচ্ছতা, অন্তর্ভুক্তি ও দক্ষতার প্রতি ভারতের অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক নির্বাচন দর্শনার্থী কর্মসূচি ভারতের নির্বাচন কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সেরা অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।



















