নয়াদিল্লি, ১১ এপ্রিল (আইএএনএস): মহাত্মা জ্যোতিবা ফুলের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রধান মায়াবতী। তিনি ফুলেকে ‘সামাজিক পরিবর্তনের জনক’ হিসেবে অভিহিত করে সমাজ সংস্কার ও শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান তুলে ধরেন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে মায়াবতী বলেন, “আজ তাঁর জন্মবার্ষিকীতে আমি এবং বিএসপি-র পক্ষ থেকে মহাত্মা জ্যোতিবা ফুলেকে জানাই বিনম্র প্রণাম ও গভীর শ্রদ্ধা। তিনি বহুজনে সমাজের অত্যন্ত অনগ্রসর অংশে জন্মগ্রহণ করেও গোটা দেশে সামাজিক পরিবর্তনের পথপ্রদর্শক হয়ে উঠেছিলেন।”
তিনি উল্লেখ করেন, জ্যোতিবা ফুলে ও তাঁর স্ত্রী সাভিত্রীবাই ফুলে শিক্ষার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। “নারীশক্তির বিকাশে শিক্ষার মাধ্যমে পথ দেখিয়েছিলেন তাঁরা। ইতিহাসের পাতায় তাঁদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে,” বলেন মায়াবতী।
তিনি জ্যোতিবা ফুলের একটি বিখ্যাত উক্তিও তুলে ধরেন, যেখানে শিক্ষার অভাবকে সামাজিক পশ্চাৎপদতার মূল কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
মায়াবতী আরও বলেন, ফুলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই পরে ড. ভীমরাও আম্বেদকর শিক্ষাকে সামাজিক পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গুরুত্ব দেন।
১৯শ শতকে দলিত ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য ফুলের নিরলস প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “তাঁর প্রচেষ্টায় শুধু পুনেতেই নয়, সমগ্র মহারাষ্ট্রে সামাজিক জাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল, বিশেষ করে নারীমুক্তি আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা অনন্য।”
এছাড়াও, উত্তরপ্রদেশে তাঁর সরকার ফুলের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিল বলে জানান মায়াবতী। তিনি বলেন, অমরোহা জেলার নাম পরিবর্তন করে ‘জ্যোতিবা ফুলে নগর’ রাখা হয়েছিল, যদিও পরবর্তী সরকার সেই নাম পরিবর্তন করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর সরকার গঠিত অন্যান্য জেলা যেমন কাংশীরাম নগর, রামাবাই নগর, ভীমনগর, প্রবুদ্ধ নগর এবং পঞ্চশীল নগরের নামও পরবর্তী সরকার পরিবর্তন করে দেয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
______



















