কলকাতা, ১১ এপ্রিল (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কসবা বিধানসভা কেন্দ্রে সেক্টর অফিসার/সহকারী হিসেবে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার সকালে নিজের সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি বিবৃতি পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা।
শুভেন্দুর অভিযোগ, কসবা কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার পূর্ণিমা দে (পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস – এক্সিকিউটিভ) যে নির্দেশ জারি করেছেন, তা মূলত “পক্ষপাতদুষ্ট চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের” এমন দায়িত্বে বসানোর একটি ষড়যন্ত্র, যা আইনত শুধুমাত্র স্থায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত।
তিনি আরও জানান, এই কর্মীরা পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দফতরের ‘আইএসজিপিপি সেল’-এর অধীনে চুক্তিভিত্তিক কর্মী, যারা বর্তমানে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, এমন সংবেদনশীল নির্বাচনী দায়িত্বে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়োগ নিষিদ্ধ, কারণ তাঁদের জবাবদিহিতা ও পরিষেবা সুরক্ষা স্থায়ী কর্মীদের মতো নয়।
শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, “সেক্টর অ্যাসিস্ট্যান্ট” বা “অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্টর অফিসার” নামে যে পদগুলি দেখানো হয়েছে, সেগুলি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত কাঠামোয় নেই। এই নতুন পদবিগুলি তৈরি করা হয়েছে নজর এড়াতে এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের মাঠে নামাতে।
তাঁর দাবি, আগে এই একই ব্যক্তিদের ‘সেক্টর অফিসার’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। আপত্তি ওঠার পর কৌশলে তাঁদের পদবী বদলে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু দায়িত্ব একই রাখা হয়েছে, যাতে শাসক দলের সুবিধা হয়।
বিরোধী দলনেতার মতে, এটি নির্বাচনী আচরণবিধির (এমসিসি) স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি।
তিনি বলেন, “চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের উপর জীবিকার জন্য সরকারের উপর নির্ভরতা থাকায়, প্রশাসন পক্ষপাতদুষ্টভাবে নির্বাচনী যন্ত্রকে শাসক দলের হাতে তুলে দিচ্ছে।”
শেষে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে এই বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানান এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবি করেন।
উল্লেখ্য, কসবা বিধানসভা কেন্দ্রে দ্বিতীয় দফায়, ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ হবে।



















