কাঠমান্ডু, ১০ এপ্রিল(আইএএনএস): কেপি শর্মা অলি এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক-কে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ১৩ দিন কারাগারে থাকার পর বৃহস্পতিবার তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।
গত ২৮ মার্চ, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ‘জেন জেড’ আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই আন্দোলনে বেশ কয়েকজন প্রতিবাদকারীর মৃত্যু হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা হেবিয়াস কর্পাস মামলার শুনানিতে নেপালের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, কাঠমান্ডু জেলা আদালতের দেওয়া অতিরিক্ত পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাঁদের মুক্তি দিতে হবে।
আদালত জানায়, “তদন্ত সম্পূর্ণ করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিন, অথবা জাতীয় ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী ওলি ও লেখককে মুক্তি দিন।”
মুক্তির পর কেপি শর্মা অলি অভিযোগ করেন, তাঁকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছিল। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, সরকার পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং ১৩ দিন বেআইনিভাবে আটক রেখেছিল। পর্যাপ্ত প্রমাণ দিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে মুক্তি দিতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আরও কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
গত বছরের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর ‘জেন জেড’ আন্দোলনের ঘটনাগুলি তদন্ত করতে প্রাক্তন স্পেশাল কোর্টের প্রধান গৌরী বাহাদুর কার্কির নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই ওলি ও লেখককে গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া তৎকালীন স্বরাষ্ট্রসচিব গোকর্ণ মণি দাওয়াড়ি, বর্তমান সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রধান রাজু আর্যাল, জাতীয় তদন্ত বিভাগের প্রাক্তন প্রধান হুতারাজ থাপা এবং কাঠমান্ডুর তৎকালীন প্রধান জেলা কর্মকর্তা ছবি রিজালের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘জেন জেড’ আন্দোলনের সময় ৭৭ জনের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৮৪ বিলিয়ন নেপালি রুপির সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি হয়।



















