ব্রাসেলস, ৯ এপ্রিল (আইএএনএস): বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র সংখ্যালঘু সুরক্ষার প্রতিশ্রুতিকে বড় পরীক্ষার মুখে ফেলতে পারে।
ব্রাসেলসভিত্তিক ‘ইইউ রিপোর্টার’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন বিএনপি সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও অতীত রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষত, ২০২৪ সালের অগস্টে শুরু হওয়া মুহাম্মদ ইউনুস-নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনকালে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে বাদ দেওয়ার পর বিএনপি সংখ্যালঘুদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করে। যদিও অতীতে সংখ্যালঘুদের প্রতি দলটির আচরণ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
বিশেষ করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে সংবিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি সরিয়ে দেন—যা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, অতীতে দলের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় অনেক হিন্দু ভোটার বিকল্প হিসেবে বিএনপিকে সমর্থন করেছিলেন। তবে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখলের পুরনো সমস্যা এখনও বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে রয়ে গেছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘অর্পিত সম্পত্তি আইন’ আইনটির কথা, যা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যমূলক হিসেবে সমালোচিত। এই আইনের মাধ্যমে বহু হিন্দু মালিকানাধীন সম্পত্তি দখল করা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর পাকিস্তানে প্রণীত বৈষম্যমূলক আইনের ধারাবাহিকতা থেকেই এই আইনের উৎপত্তি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরও হিন্দুদের সম্পত্তি নিয়ে সমস্যা পুরোপুরি মেটেনি।
১৯৭৪ সালে ‘ভেস্টেড অ্যান্ড নন-রেসিডেন্ট প্রপার্টি (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে এই আইনকে আরও শক্তিশালী করা হয়। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে বাড়ি ছাড়লেও পুরো সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
যদিও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কিছু আইনি সংস্কার আনা হয়েছিল, তবুও বাস্তবে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি ফেরতের প্রক্রিয়া খুব সীমিত ছিল এবং বহু মামলা এখনও নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
________


















