নয়াদিল্লি, ৪ এপ্রিল(আইএএনএস): ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে চলেছে, যেখানে নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, যোগাযোগ ও গোয়েন্দা সহযোগিতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারিক রহমান-এর নেতৃত্বে নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে উঠছে বলে মনে করা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিনের ব্যাক-চ্যানেল আলোচনার ফলেই এই ‘রিসেট’ সম্ভব হয়েছে।
এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান-এর ভারত সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর এই সফরে তিনি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী স্তরের বৈঠকের পথ প্রশস্ত করবে। অন্যদিকে, ডোভালের সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাসবাদ দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা জোরদার করা অন্যতম অগ্রাধিকার। দুই দেশই সীমান্তকে অবৈধ কার্যকলাপমুক্ত রাখার বিষয়ে ইতিমধ্যেই একমত হয়েছে।
এছাড়া বাণিজ্য ও যোগাযোগ ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতে পণ্য পরিবহণ আরও সহজ করার বিষয়টি আলোচনায় আসবে। একইসঙ্গে বাংলাদেশের জন্য ভারতীয় বাজারে প্রবেশাধিকারের প্রসার নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
বঙ্গোপসাগর-কে কেন্দ্র করে বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের বিকল্প রুট তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে আসবে, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিরতার প্রেক্ষিতে।
এছাড়া জল বণ্টন ও বাণিজ্য ভারসাম্যের মতো দীর্ঘদিনের ইস্যুগুলিও আলোচনায় থাকবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফরের সময়।
গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানও এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। জাল নোট, গরু পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে দুই দেশের মধ্যে এই সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফর শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
______



















