নয়াদিল্লি, ৩ এপ্রিল : পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যদ্রব্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করল ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও)। শুক্রবার প্রকাশিত রিপোর্টে জানানো হয়েছে, মার্চ মাসে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
এফএও-র ফুড প্রাইস ইনডেক্স মার্চে দাঁড়িয়েছে ১২৮.৫ পয়েন্টে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২.৪ শতাংশ বেশি এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি।
এফএও-র প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো জানান, সংঘাত শুরুর পর থেকে দাম বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট। তবে বিশ্বজুড়ে শস্যের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া যাচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এই সংঘাত ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হয় এবং উৎপাদন খরচ বাড়তে থাকে, তাহলে কৃষকদের কম ইনপুট ব্যবহার করা, কম চাষ করা বা কম সারনির্ভর ফসলের দিকে ঝুঁকতে হতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতের উৎপাদন এবং খাদ্য সরবরাহে বড় প্রভাব পড়বে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্চ মাসে গমের আন্তর্জাতিক দাম ৪.৩ শতাংশ বেড়েছে, যার মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রে খরার প্রভাব এবং অস্ট্রেলিয়া-তে উচ্চ সারমূল্যের কারণে কম চাষের সম্ভাবনা।
ভুট্টার দাম সামান্য বেড়েছে, যদিও পর্যাপ্ত সরবরাহ কিছুটা ভারসাম্য বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, চালের দামে ৩ শতাংশ পতন হয়েছে, যা মূলত ফসল তোলার সময়, আমদানির চাহিদা কমে যাওয়া এবং মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে।
ভোজ্য তেলের ক্ষেত্রে বড়সড় বৃদ্ধি দেখা গেছে। পাম, সয়াবিন, সূর্যমুখী এবং রেপসিড তেলের দাম বেড়েছে, যা মূলত অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে জৈব জ্বালানির চাহিদা বাড়ার আশঙ্কার সঙ্গে যুক্ত।
মাংসের দামও ১ শতাংশ বেড়েছে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে শূকরের মাংসের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে। পাশাপাশি ব্রাজিল-এ গরুর মাংসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তার দাম বেড়েছে।
দুগ্ধজাত পণ্যের দাম ১.২ শতাংশ এবং চিনি ৭.২ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ব্রাজিল বেশি পরিমাণে আখ থেকে ইথানল উৎপাদনের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা চিনির দামে প্রভাব ফেলছে।
এদিকে, বিশ্বজুড়ে গম উৎপাদন ৮২০ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এফএও, যা গত বছরের তুলনায় ১.৭ শতাংশ কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্যদ্রব্যের দামে আরও চাপ তৈরি হতে পারে এবং এর প্রভাব আগামী বছর পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে।



















