আগরতলা, ২ এপ্রিল: ডিজিটাল পরিষেবাকে ব্যবহার করে জনগণের চিকিৎসা পরিষেবা লাভ আরও উন্নত, স্বচ্ছ ও সহজলভ্য করতে যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ত্রিপুরা সরকার। রাজ্যে সমস্ত জেলা, মহকুমা হাসপাতাল, গ্রামীণ হাসপাতাল এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ইন্টিগ্রেটেড হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম কার্যকর করা হচ্ছে। এর ফলে রোগীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে দ্রুত বহির্বিভাগে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন এবং তাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য সহজে পেতে পারেন। এই প্রকল্প রাজ্যের প্রান্তিক জনগণের প্রতিটি নাগরিকের কাছে আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই উদ্যোগের সুফল পাবেন রাজ্যের মানুষ।
আজ মহাকরণে স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্যে, স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ দেবাশ্রী দেববর্মা, স্টেট মিশন ডাইরেক্টর এবিডিএম ডাঃ জি শরখ নায়েক, স্বাস্থ্য অধিকারের হেড অব অফিস ডাঃ রাজেশ অনিল আচার্য, স্বাস্থ্য অধিকারের উপ-অধিকর্তা ডাঃ অলক দেওয়ান, বিইসিআইএল-এর প্রতিনিধিবৃন্দের উপস্থিতিতে রাজ্যের জনগণের স্বার্থে এই আইএইচএমআইএস পরিষেবাকে সফল করতে চেষ্টার ত্রুটি যাতে না থাকে সেই নির্দেশ দেন। বিআইসিআইএল-এর প্রতিনিধিদের এই কর্মকাণ্ডকে একশ শতাংশ সফল করার নির্দেশ দিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সমস্ত উপকরণের বন্দোবস্ত করার কথা বলেন। এই কাজে কোনওরকম গাফিলতি যাতে না হয় সেদিকে সতর্ক থাকার কথা তিনি বলেন। এই কাজের ক্ষেত্রে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীদের ভূমিকা নিশ্চিত করার কথাও তিনি বলেন। উল্লেখ্য গত ৩০ মার্চ আইএইচএমআইএস কার্যকরী করার লক্ষ্যে মেসার্স ব্রডকাস্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্টস ইন্ডিয়া লিমিটেড (বিইসিআইএল) এর সঙ্গে মৌ স্বাক্ষর হয়। স্বাক্ষর করেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ দেবাশ্রী দেববর্মা, স্টেট মিশন ডাইরেক্টর এবিডিএম ডাঃ জি শরথ নায়েক, বিইসিআইএল এর পক্ষ ঊষা মঙ্গলগি।
রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার লক্ষ্যে আইএইচএমআইএস প্রকল্প চালু হতে চলেছে। এর প্রধান দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল হেলথ রেকর্ড। এর মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড তৈরি করা হবে, যাতে রোগী যে কোনো সরকারি হাসপাতালে গেলে তার পূর্বের চিকিৎসার তথ্য চিকিৎসকরা সহজেই দেখতে পারেন। রয়েছে আযুত্থান ভারত ডিজিটাল মিশন। এই সিস্টেমটি কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত ডিজিটাল মিশনের সাথে সংযুক্ত, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের একটি আভা আইডি তৈরি করা হবে। কাগজবিহীন পরিষেবা হাসপাতালের বহির্বিভাগ এবং জরুরি বিভাগে লম্বা লাইন কমানোর জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন। ইতিমধ্যে রাজ্যভিত্তিক হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল সহ বিভিন্ন প্রাথমিক হাসপাতালে আভা চালু রয়েছে। এবার তা সমস্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র পর্যন্ত প্রসারিত হবে। এর পাশাপাশি ই-প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থা চালু হবে। টেলি-কনসাল্টেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যাতে সরাসরি আগরতলা জিবিপি হাসপাতাল বা আইজিএম হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পেতে পারেন, তার জন্য আইএইচএমআইএস-এর মাধ্যমে টেলি-মেডিসিন পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।



















