অম্বিকাপুর, ২ এপ্রিল(আইএএনএস): প্রতিকূলতার মধ্যেই সাফল্যের পথ তৈরি করা—এই কথার বাস্তব উদাহরণ হয়ে উঠেছেন অসমের কুস্তিগির দেবী দাইমারি। কঠিন জীবনসংগ্রাম পেরিয়ে ‘খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমস’-এ মহিলাদের ৬২ কেজি বিভাগে রুপো জিতে নজর কেড়েছেন তিনি।অসমের গোলাঘাট জেলার দিনেশপুর গ্রামের বাসিন্দা দেবী মাত্র সাত বছর বয়সে বাবা-মাকে হারান। এরপর কাকা-কাকিমার কাছে বড় হওয়া। আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি নানা ছোটখাটো কাজ করে চালাতে হয়েছে জীবন ও প্রশিক্ষণ।২০২২ সালে কাজিরাঙার কাছে বোকাখাটে একটি খেলো ইন্ডিয়া সেন্টারে কুস্তির প্রশিক্ষণ শুরু করেন দেবী। কিন্তু থাকার জন্য ভাড়া দিতে না পারায় তাঁকে পার্ট-টাইম কাজ করতে হয়। প্রথমে একটি দোকানে মাসে ২৫০০ টাকায় কাজ, পরে একটি রিসর্টে চাকরি—যেখানে তিনি সুইমিং পুল পরিষ্কার করতেন। মাসে প্রায় ৭০০০ টাকা উপার্জন করতেন।দিনভর কাজের পর সন্ধ্যায় মাত্র দুই ঘণ্টা অনুশীলন—এই কঠোর পরিশ্রমই তাঁকে এনে দিয়েছে সাফল্য। দেবীর কথায়, “এই পদক আমার পরিশ্রমের ফল। তবে আমি এতে সন্তুষ্ট নই, এবার সোনা জিততে চাই।”কুস্তিতে আসার আগে তিনি পাওয়ারলিফটিং ও আর্ম রেসলিং করতেন। ২০২২ সালে কোচ অনুস্তূপ নারাহ তাঁর প্রতিভা দেখে কুস্তিতে আসার পরামর্শ দেন এবং প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তাও করেন।শুরু করার বছরেই সিনিয়র স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে যোগ্যতা অর্জন করেন দেবী। এরপর ২০২৪ সালে রাজ্য স্তরে সোনা জিতে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দেন।২০২৫ সালে বিয়ের পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সমর্থন তাঁর লড়াইকে আরও শক্তিশালী করেছে। তাঁর স্বামী বেঙ্গালুরুতে কাজ করেন এবং নিয়মিত অর্থ সাহায্য করে পাশে থাকেন।এখন দেবীর লক্ষ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্য অর্জন করা। কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি এগিয়ে চলেছেন নিজের স্বপ্নপূরণের পথে।



















