ত্রিপুরা তপশিলি জাতি সমন্বয় সমিতির ১০ম রাজ্য সম্মেলন সম্পন্ন, নতুন রাজ্য কমিটি গঠিত

আগরতলা, ৮ মার্চ: ত্রিপুরা তপশিলি জাতি সমন্বয় সমিতির ১০ম রাজ্য সম্মেলন শেষ হওয়ার পর আজ আগরতলার টাউন হলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে গত দু’দিনের সম্মেলনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন সংগঠনের পুনর্নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সুধন দাস।

সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনের নতুন রাজ্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। সভাপতি পদে পুনরায় বহাল রয়েছেন রতন ভৌমিক। পাশাপাশি ২২ জনের সম্পাদকমণ্ডলী এবং ১৫৯ জনের রাজ্য কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে আগে রাজ্য কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিল ১২৭ জন।

সংগঠনের সাংগঠনিক বিস্তারের কথা উল্লেখ করে সুধন দাস বলেন, বর্তমানে সমিতির অধীনে ৬৬১টি প্রাথমিক কমিটি, ১৬৩টি অঞ্চল কমিটি, ২৩টি মহকুমা কমিটি এবং রাজ্যের আটটি জেলাতেই সংগঠনের কমিটি রয়েছে। এবারের সম্মেলনে মোট ৬১৭ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে ৬৮ জন ছিলেন মহিলা প্রতিনিধি। সম্মেলনে ২৮ জন প্রতিনিধি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সারা দেশে দলিতদের উপর আক্রমণ ও অর্থনৈতিক শোষণ বেড়ে চলেছে। বিভিন্ন দিক থেকে দলিত সমাজ বঞ্চনার শিকার হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। চাকরির সুযোগ কমে যাওয়া এবং কর্মসংস্থানের অভাবের বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সুধন দাস আরও অভিযোগ করেন, তপশিলি জাতির কল্যাণে কেন্দ্রীয় বাজেট ও সাব-প্ল্যানে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি সরকারের আমলে কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বেকার যুবকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সম্মেলনে প্রতিনিধিরা শিক্ষা ও মৌলিক পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। অনেক স্কুলে শিক্ষক সংকট রয়েছে এবং তপশিলি সম্প্রদায়ের বহু মানুষ এখনও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত বলেও অভিযোগ করা হয়। পানীয় জলের সমস্যার কারণে বহু জায়গায় মানুষকে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া এডিসি এলাকায় দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগও সম্মেলনে উঠে আসে বলে জানান তিনি। সম্মেলনে মোট আটটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে এডিসি নির্বাচনে বামফ্রন্ট প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান, সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়সহ বিভিন্ন দাবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ দফা দাবি গৃহীত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৬৭ হাজার ৭৩৭ জন। আগামী দিনে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১ লক্ষ ৩৫ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানান সুধন দাস।

তিনি আরও বলেন, সম্মেলনে গণবিরোধী ও অত্যাচারী বিজেপি সরকারের পতনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। আগামী দিনে সংগঠনের পক্ষ থেকে পদযাত্রা, বাজারসভা এবং গণডেপুটেশন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে রাজ্যব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলনমূলক কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সংগঠনের নেতৃত্ব।

Leave a Reply