নয়াদিল্লি, ১৫ জানুয়ারি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ভারত প্রমাণ করেছে যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়াগুলো গণতন্ত্রকে স্থিতিশীলতা, দ্রুততা এবং বিস্তৃত পরিসরে কার্যকর করতে সক্ষম। আজ সম্বিধান সদনে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ স্পিকার ও প্রিসাইডিং অফিসারদের সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারত তার বৈচিত্র্যকে গণতন্ত্রের শক্তিতে পরিণত করেছে।
তিনি আরও বলেন, ভারতে গণতন্ত্র মানে “শেষ মাইল” পর্যায়ে নাগরিকসেবা পৌঁছে দেওয়া, এবং সরকার জনগণের কল্যাণের চেতনায়, প্রতিটি ব্যক্তির জন্য কোন বৈষম্য ছাড়াই কাজ করছে। মোদি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতে মানুষই সর্বোচ্চ, এবং তাদের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দেশটি বৈচিত্র্যকে শক্তিতে পরিণত করেছে এবং বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে স্থান অধিকার করেছে। মোদি আরও বলেন, বর্তমানে ভারতের ইউপিআই হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম।
তিনি জানান, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন উৎপাদক এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম লৌহ উৎপাদক। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এটি ভারতীয় মাটিতে কমনওয়েলথ স্পিকার ও প্রিসাইডিং অফিসারদের সম্মেলনের চতুর্থ আয়োজন। মোদি বলেন, ভারত প্রতিটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে গ্লোবাল সাউথের উদ্বেগকে শক্তভাবে তুলে ধরছে। তিনি আরও বলেন, ভারতের জি২০ সভাপতিত্বের সময়ও গ্লোবাল সাউথের অগ্রাধিকারকে বৈশ্বিক এজেন্ডার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লোকসভা স্পিকার ওম বিরলা বলেন, এআই ও সোশ্যাল মিডিয়া গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়িয়েছে। তবে এআই এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার মিথ্যা তথ্য, সাইবার ক্রাইম এবং সামাজিক বিভাজনের মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। স্পিকার বলেন, এগুলো মোকাবিলায় সকলের যৌথ দায়িত্ব রয়েছে।
ওম বিরলা আশা প্রকাশ করেন, এই সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনা হবে এবং কার্যকর নীতিমালা গৃহীত হবে। তিনি আরও বলেন, সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সংসদের যাত্রায় জনগণকেন্দ্রিক নীতি ও কল্যাণ আইনগুলো গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে। ভারতের ন্যায্য নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রতিটি নাগরিককে গণতন্ত্রে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে এবং এটি জনগণের গণতন্ত্রে আস্থা বৃদ্ধি করেছে।



















