লখনউ, ৭ জুন (আইএএনএস): উত্তরপ্রদেশ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার আগে ‘ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র’-এর প্রলোভন দেখিয়ে পরীক্ষার্থীদের প্রতারণার অভিযোগে একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘ইউপিপি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র’ নামে একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল পরীক্ষার্থীদের কাছে ভুয়ো প্রশ্নপত্র বিক্রির প্রস্তাব দেয়। অভিযোগ, প্রশ্নপত্র পাওয়ার জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮,০০০ টাকা করে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
চ্যানেলটি একটি কিউআর কোড এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যও শেয়ার করেছিল, যাতে আগ্রহী পরীক্ষার্থীরা টাকা জমা দিতে পারেন। বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পর তদন্ত শুরু হয়।
এই নিয়োগ পরীক্ষা উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ৩২,৬৭৯টি কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশ পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। লখনউয়ের হুসেনগঞ্জ থানা-এ টেলিগ্রাম চ্যানেলটির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ চ্যানেলটির পরিচালকের পরিচয় এবং প্রতারণায় ব্যবহৃত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহে তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে উত্তর প্রদেশ পুলিশ নিয়োগ ও পদোন্নতি বোর্ড পরীক্ষার আগে সতর্কবার্তা জারি করেছে। বিশেষ করে জাল নথি ব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের হয়ে পরীক্ষায় বসা তথাকথিত ‘প্রবলেম সলভার’-দের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বোর্ড জানিয়েছে, ধরা পড়লে শুধু আইনি শাস্তিই নয়, অভিযুক্তদের সম্পত্তির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিরাপদে স্ট্রংরুমে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের গুজব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষা ৮ জুন (সোমবার) থেকে শুরু হচ্ছে। প্রায় ২৮ লক্ষ পরীক্ষার্থী এতে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্যের ১,১০০-রও বেশি পরীক্ষাকেন্দ্রে ৮ জুন থেকে ১০ জুন পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন দুটি শিফটে পরীক্ষা নেওয়া হবে— প্রথম শিফট সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় শিফট বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত।
























