গুয়াহাটি, ২২ জুলাই (আইএএনএস) : অসমে বন্যা পরিস্থিতি সরকারি মূল্যায়নের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর দাবি, এখনও বহু গ্রাম সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে, নতুন করে মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে এবং হাজার হাজার মানুষ জলবন্দি হয়ে ত্রাণের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।
বুধবার চরাইদেও জেলার সোনারিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বহু মানুষ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিলেও এখনও অসংখ্য মানুষ এমন গ্রামে আটকে রয়েছেন, যেখানে উদ্ধারকারী ও ত্রাণকারী দল এখনও পৌঁছাতে পারেনি।
তিনি বলেন, পুরো গ্রাম জলের তলায় চলে গেছে। এমন অনেক এলাকা রয়েছে যেখানে সরকার বা ত্রাণ সংস্থাগুলিও এখনও পৌঁছাতে পারেনি। এখনও নতুন নতুন মৃতদেহ উদ্ধার হচ্ছে। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরকারি নথিতে যা দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি নিজে বন্যাকবলিত এলাকাগুলি পরিদর্শনে যাবেন। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) এবং রাজ্য প্রশাসন যৌথভাবে জলবন্দি মানুষদের উদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ করছে।
বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, বহু পরিবার তাদের বাড়িঘর, গবাদিপশু, শিক্ষাগত শংসাপত্র এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষের দুর্ভোগের কোনও সীমা নেই। আমরা তাদের পাশে আছি এবং সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করেন, এখনও অনেক মানুষ এমন দুর্গম এলাকায় আটকে রয়েছেন, যেখানে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন। তিনি একটি ঘটনার উল্লেখ করে জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এক অসুস্থ ব্যক্তিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে তাঁকে ব্যাটারিচালিত একটি রিকশাতেই রাখতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টারের সাহায্যে আকাশপথেও উদ্ধার অভিযান চালানোর চেষ্টা করেছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে বহু এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেশী নাগাল্যান্ডে মেঘভাঙা বৃষ্টির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঘটনার পরপরই নাগাল্যান্ড সরকার অসম প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছিল। কিন্তু দুর্যোগটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত ছিল।
তিনি জানান, রাজ্য সরকার নিয়মিত বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বুলেটিন প্রকাশ করবে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি সরকারি পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর বলেও সতর্ক করেন তিনি।



















