নয়াদিল্লি, ২২ জুলাই (আইএএনএস): নীট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার কংগ্রেস সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং বর্তমান সরকারের আমলে তা কারচুপির শিকার হয়েছে। এর ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
রাহুল গান্ধীর দাবি, গত ১০ বছরে দেশে অন্তত ১৫২টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ৭.৫ কোটি ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখনও পর্যন্ত একজনও দোষী সাব্যস্ত হননি।
দিল্লিতে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের দাবি সম্পূর্ণ ন্যায্য। কিন্তু সরকার তাঁদের কথা শোনার বদলে বলপ্রয়োগ করে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে রাহুল বলেন, তিনি “দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অযোগ্য”। তাঁর অভিযোগ, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ শিক্ষা ব্যবস্থাকে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বেই ধ্বংস করা হচ্ছে। তাই ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।
সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন। প্রথমত, অযোগ্যতার কারণে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নীট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, এই পুরো ঘটনার জন্য দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ছাত্রছাত্রীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
রাহুল আরও দাবি করেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে এবং বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করেও সাধারণ পরিবারের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা শেষ পর্যন্ত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, আর প্রভাবশালী ও সুবিধাপ্রাপ্তদের হাতেই মেডিক্যালের আসন চলে যাচ্ছে।
–আইএএনএস



















