জম্মু, ২৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলায় এক সরকারি স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার তাঁকে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
রাজৌরির চিফ এডুকেশন অফিসার (সিইও) জানিয়েছেন, মউঘলা জোনের লাঞ্জহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত গ্রেড-৩ শিক্ষককে শৃঙ্খলাভঙ্গ, দায়িত্বে গাফিলতি ও অসদাচরণের অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
সরকারি নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জোনাল এডুকেশন অফিসার (জেডিইও), মউঘলার পরিদর্শনের সময় ওই শিক্ষককে কর্মঘণ্টায় স্কুল প্রাঙ্গণে মদ্যপ অবস্থায় দেখা যায় বলে অভিযোগ। এর ফলে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছিল বলে রিপোর্টে জানানো হয়।
এর আগেও দায়িত্বে অনুপস্থিতি ও স্কুল চলাকালীন মদ্যপানের অভিযোগে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তবে আচরণে সন্তোষজনক পরিবর্তন দেখা যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পাশাপাশি সহকর্মী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগে অসদাচরণ, সহকর্মীদের হয়রানি, পাঠদানে গাফিলতি এবং সরকারি কর্মচারীর মর্যাদাবিরোধী আচরণের কথা উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগগুলিকে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা, রাজৌরি জম্মু ও কাশ্মীর সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি, ১৯৭১ লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেন। সেই ভিত্তিতে জম্মু ও কাশ্মীর সিভিল সার্ভিসেস (ক্লাসিফিকেশন, কন্ট্রোল অ্যান্ড আপিল) রুলস, ১৯৫৬ অনুযায়ী বিভাগীয় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাসপেনশন চলাকালীন শিক্ষককে খাওয়াসের জোনাল এডুকেশন অফিসারের কার্যালয়ে সংযুক্ত রাখা হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী ভাতা প্রাপ্য হবেন।
উল্লেখ্য, অতীতেও জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন জেলায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক শাস্তি দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে, যেখানে কয়েকজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছিল।
সরকার পুনরায় স্পষ্ট করেছে, স্কুল, কলেজ বা অন্য কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাস্তির কোনও বিধান নেই এবং এ ধরনের আচরণ বরদাস্ত করা হবে না।

