নিজস্ব প্রতিনিধি, বিশ্রামগঞ্জ, ২ জুন: সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা যাত্রীবাহী অটো। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ কর্মস্থল, বাজার কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে এই পরিবহণ ব্যবস্থার উপর নির্ভর করেন। কিন্তু সেই যাত্রীবাহী অটোকেই মাদক পাচারের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা উদ্বেগ বাড়িয়েছে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও।
মঙ্গলবার রামনগর পাগলী বাড়ি সড়কে নিয়মিত নাকা তল্লাশি চলাকালীন এক যাত্রীবাহী অটোকে সন্দেহজনকভাবে দাঁড় করিয়ে তল্লাশি চালায় বিশ্রামগঞ্জ থানার পুলিশ। তল্লাশির সময় অটোর ভেতর থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় বিপুল পরিমাণ শুকনো গাঁজা উদ্ধার হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অটোর চালক দীপক সরকার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও গাড়িটি এবং উদ্ধার হওয়া গাঁজা পুলিশ আটক করে।ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিশালগড় মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (এসডিপিও) বিকাশ সিন্থিয়া।
তাঁর নেতৃত্বে পুলিশ গোটা ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া গাঁজাগুলি বহিঃরাজ্যে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পাচারকারীরা নজর এড়ানোর জন্য সাধারণ যাত্রীবাহী অটো ব্যবহার করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচার রুখতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই এদিনের সাফল্য। অভিযুক্ত চালকের সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে এবং এই পাচারচক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মাদকের অবাধ বিস্তার যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চালানোর দাবি তুলেছেন তাঁরা।
সমাজের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে বলে মত অভিজ্ঞ মহলের। এদিনের এই অভিযান আবারও প্রমাণ করল, সতর্ক নজরদারি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ থাকলে মাদক পাচারকারীদের বড়সড় পরিকল্পনাও ভেস্তে দেওয়া সম্ভব।



















