নয়াদিল্লি/বেঙ্গালুরু, ২ জুন (আইএএনএস) : কর্নাটকের নতুন মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দিনভর ম্যারাথন বৈঠকের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশেষ বিমানে একসঙ্গে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী-মনোনীত ডি. কে. শিবকুমার এবং বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া।
সিদ্ধারামাইয়ার দফতর সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ বিমানটি মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছাড়বে এবং রাত প্রায় ১০টায় বেঙ্গালুরুর এইচএএল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা। বুধবার সন্ধ্যায় বেঙ্গালুরুর লোক ভবনে ডি. কে. শিবকুমারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন শিবকুমার ও সিদ্ধারামাইয়া।
দলীয় সূত্রে খবর, মন্ত্রিসভার প্রথম দফায় শিবকুমারের সঙ্গে প্রায় ১৪ জন মন্ত্রী শপথ নিতে পারেন। তবে কারা মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন, সেই তালিকা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি কংগ্রেস। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে বৈঠকের পর শিবকুমার ও সিদ্ধারামাইয়াকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা Rahul Gandhi এবং খাড়গের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা যায়।
মন্ত্রিত্ব নিয়ে জল্পনা চললেও কর্নাটকের সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকা সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে চাননি কংগ্রেস নেতারা। সূত্রের দাবি, ১২ থেকে ১৪ জন মন্ত্রীর নাম ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে, যদিও মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে আলোচনা চলেছে।
এদিকে, উত্তর কর্নাটকের অনগ্রসর শ্রেণির এক প্রভাবশালী নেতাকে কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (কেপিসিসি) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর। বর্তমানে এই পদে রয়েছেন ডি. কে. শিবকুমার। দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, নতুন নেতৃত্বকে সুযোগ দিতে কয়েকজন বর্ষীয়ান নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার বাইরে রাখার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, ম্যাঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রাক্তন বিধানসভার স্পিকার ইউ. টি. খাদার বলেন, নতুন সরকারে তিনি কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার আশা করছেন। তবে এ বিষয়ে এখনও দলীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বার্তা পাননি বলেও জানান তিনি।
প্রবীণ কংগ্রেস বিধায়ক আর. ভি. দেশপান্ডে বলেন, দলীয় হাইকমান্ড যে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি তা মেনে নেবেন। সূত্রের মতে, ২০২৮ সালের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিজ্ঞ ও নতুন মুখের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে কংগ্রেস। সেই কৌশলের অংশ হিসেবে রাজ্য মন্ত্রিসভায় ৮ থেকে ১০ জন প্রথমবারের মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
এছাড়াও, ধাপে ধাপে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও বিবেচনা করছে দল। বুধবার সীমিত সংখ্যক মন্ত্রী শপথ নিলেও রাজ্যসভা ও বিধান পরিষদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হতে পারে। এর আগে শিবকুমার এবং সিদ্ধারামাইয়া উভয়েই সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নামের সুপারিশ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে জমা দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাবগুলি পর্যালোচনা করে দুই নেতার মতামত বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্র আরও জানিয়েছে, ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সী নেতাদের জন্য অধিকাংশ মন্ত্রিত্ব সংরক্ষিত রাখার পাশাপাশি প্রায় ১০টি পদ নতুন প্রজন্মের নেতাদের জন্য বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীসহ কর্নাটক মন্ত্রিসভায় সর্বোচ্চ ৩৪ জন সদস্য থাকতে পারেন। নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক, জাতিগত এবং রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব বিস্তৃত অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নও সম্পন্ন করেছে বলে সূত্রের দাবি।



















