নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস) : সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)-এর উত্তরপত্র মূল্যায়ন সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করলেন কংগ্রেস নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ জয়রাম রমেশ।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জয়রাম রমেশ লেখেন, সিবিএসই-র চেয়ারম্যান এবং সচিবকে বদলি করা হয়েছে। প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষামন্ত্রীকেও অপসারণ করতে হবে।
কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে সিবিএসই-র চেয়ারম্যান রাহুল সিং এবং সচিব হিমাংশু গুপ্তাকে বদলি করার সিদ্ধান্তের পরই এই মন্তব্য করেন তিনি। শিক্ষা-প্রযুক্তি সংস্থা কোয়েম্পট এডু টেক-এর সঙ্গে সিবিএসই-র অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) সিস্টেম সংক্রান্ত চুক্তিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তীব্র হওয়ার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য জয়রাম রমেশ বলেন, সিবিএসই নেতৃত্বের আকস্মিক বিদায় এবং ওএসএম সিস্টেমের ক্রয়প্রক্রিয়া তদন্তে এক সদস্যের কমিটি গঠনই প্রমাণ করে যে অনিয়ম ঘটেছিল। এই কেলেঙ্কারি অনলাইনে প্রকাশ্যে আনা এবং সংসদের শিক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সামনে বিষয়টি তুলে ধরার জন্য জেন-জি প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের দক্ষতা ও সচেতনতাকে কৃতিত্ব দিতে হবে।
এদিন হুইসেলব্লোয়ার ছাত্র সার্থক সিদ্ধান্ত সংসদের শিক্ষা, মহিলা, শিশু, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সামনে হাজির হন। কংগ্রেস সাংসদ দিগ্বিজয় সিং-এর নেতৃত্বাধীন কমিটির সামনে তিনি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন বলে জানা গেছে।
জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেন, শিক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পরপরই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা মূলত রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তে আমলাদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা। মনে রাখতে হবে, ২০২৫ সালের নভেম্বরেই নিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি রাহুল সিংয়ের মেয়াদ আরও দুই বছরের জন্য বাড়িয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত, অদক্ষ এবং ব্যর্থ ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যা লক্ষ লক্ষ যুবকের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করেছে। তাঁর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।
উল্লেখ্য, নিট পরীক্ষায় অনিয়ম এবং সিবিএসই-র ডিজিটাল মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে ঘিরে অভিযোগ ওঠার পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় ছাত্র বেদান্ত শ্রীবাস্তব-এর একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্ট থেকে। তিনি জানান, পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষায় প্রত্যাশার তুলনায় কম নম্বর পাওয়ার পর ১৯ মে তিনি তাঁর উত্তরপত্রের ফটোকপির জন্য আবেদন করেছিলেন।
চার দিন পরে তিনি এক্স-এ দাবি করেন, সিবিএসই যে উত্তরপত্রের কপি তাঁকে পাঠিয়েছে, সেটি তাঁর হাতের লেখা নয় এবং অন্য এক পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র। পরে সিবিএসই ভুল স্বীকার করে সঠিক উত্তরপত্র তাঁকে পাঠায়।
এছাড়াও একাধিক ছাত্রছাত্রীর পক্ষ থেকে নম্বর প্রদানে অসঙ্গতি এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের জেরে সিবিএসই-র মূল্যায়ন পদ্ধতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।



















