১৩ ছাত্র গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সম্পূর্ণ ধর্মঘটের ডাক জেএনইউএসইউ-র

নয়াদিল্লি, ২৭ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): ১৩ জন ছাত্র-ছাত্রীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (জেএনইউএসইউ) শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে সম্পূর্ণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রকের উদ্দেশ্যে মিছিল চলাকালীন তিনজন পদাধিকারী-সহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে অভিযোগ।

ছাত্র সংসদের দাবি, প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালে একাধিক ছাত্রকে ‘নৃশংসভাবে’ মারধর করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশি অভিযানের সময় বি আর আম্বেদকর-এর প্রতিকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলে তারা। গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রদের আদালতে তোলা হয়েছে এবং দিল্লি পুলিশ তাদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে।

এক বিবৃতিতে জেএনইউএসইউ ১৩ জন ছাত্র ও পদাধিকারীর নিঃশর্ত ও অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানায়। একই সঙ্গে উপাচার্যের বিরুদ্ধে জাতিভিত্তিক মন্তব্যের অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগ দাবি করা হয়। ছাত্রদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়া এবং ঘটনার সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

ছাত্র সংসদ আরও দাবি করেছে, ড. আম্বেদকরের প্রতিকৃতি অবমাননার জন্য দায়ী পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত প্রোক্টোরিয়াল ব্যবস্থা ও এফআইআর প্রত্যাহার করতে হবে। “ফ্রি আওয়ার কমরেডস নাউ” এবং “লং লিভ স্টুডেন্ট ইউনিটি” স্লোগান তুলে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

আটক ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন আদিতি মিশ্র, নীতিশ কুমার, গোপিকা বাবু এবং দানিশ আলি। আদিতি মিশ্র জেএনইউএসইউ-র সভাপতি, নীতিশ কুমার প্রাক্তন সভাপতি, গোপিকা বাবু সম্পাদক এবং দানিশ আলি সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার জেএনইউ ক্যাম্পাস থেকে শিক্ষা মন্ত্রকের উদ্দেশ্যে ‘লং মার্চ’ করার চেষ্টা ঘিরেই সংঘাতের সূত্রপাত। পুলিশের দাবি, ক্যাম্পাসের বাইরে মিছিল করার জন্য অনুমতি নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগেই জানিয়েছিল, ক্যাম্পাসের বাইরে বিক্ষোভের অনুমোদন দেওয়া হয়নি এবং ছাত্রদের বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কর্মসূচি সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

তা সত্ত্বেও প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ছাত্র জড়ো হয়ে মিছিল শুরু করেন বলে পুলিশ জানায়। বিকেল প্রায় ৩টা ২০ মিনিট নাগাদ বিক্ষোভকারীরা মূল ফটক পেরিয়ে শিক্ষা মন্ত্রকের দিকে অগ্রসর হতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপরই উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।

পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা লাঠি ও জুতো ছুড়ে আক্রমণ করেন এবং কয়েকজন পুলিশকর্মীকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। কয়েকজন আধিকারিক আহত হন বলেও দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদের অভিযোগ, পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে, যার ফলে বহু বিক্ষোভকারী আহত হন।

সংঘর্ষের একাধিক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিওতে আম্বেদকরের প্রতিকৃতি কেড়ে নেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হলেও, সেই ভিডিওগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply