জিপিইউ ঘাটতিই ভারতের এআই স্বপ্নের প্রধান বাধা, অর্থ বা মেধার অভাব নয়: রাজ্যসভায় উদ্বেগ রাঘব চাড্ডার

নয়াদিল্লি, ৫ ফেব্রুয়ারি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় অর্থের অভাব বা মেধার সংকট নয়, বরং অত্যাবশ্যক কম্পিউটেশনাল রিসোর্স, বিশেষ করে গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ)-এর ঘাটতি। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এই উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন আম আদমি পার্টির সাংসদ রাঘব চাড্ডা।

রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাঘব বলেন, জিপিইউ-এর ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন ভারতের ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ এবং উন্নত এআই মডেল প্রশিক্ষণের প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। তাঁর মতে, বর্তমানে ভারতে জিপিইউ-এর সংখ্যা প্রায় ৩৪,০০০, যা বিশ্বমানের আধুনিক এআই সিস্টেম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পরিসরের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

তিনি সভাপতির মাধ্যমে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, জিপিইউ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটেশনাল রিসোর্সের নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ জোগান নিশ্চিত করতে সরকার কী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, কী সময়সীমা স্থির করা হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে কোন কোন ভূ-রাজনৈতিক স্তরে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই প্রশ্নের উত্তরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী (স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত) জিতেন্দ্র সিং স্বীকার করেন যে বিষয়টি সুপরিচিত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, জিপিইউ এআই উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের মূল ভিত্তি।

মন্ত্রী জানান, ‘ইন্ডিয়া এআই মিশন’-এর অধীনে কম্পিউটেশন বা ‘কম্পিউট’কে একটি স্বতন্ত্র স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই স্তম্ভের আওতায় তালিকাভুক্ত পরিষেবা প্রদানকারীদের মাধ্যমে উচ্চমানের কম্পিউটিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যেখানে যোগ্য ব্যবহারকারীরা খরচের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, ৩০ বিলিয়ন বা ৬৫ বিলিয়ন প্যারামিটার বিশিষ্ট বড় এআই মডেলের মতো উচ্চ কম্পিউট ক্ষমতা প্রয়োজন এমন প্রকল্পগুলির জন্য অতিরিক্ত উৎস থেকেও কম্পিউটেশনাল সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

জিতেন্দ্র সিং বলেন, সরকার এই চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন এবং সক্রিয়ভাবে সমাধানের পথে এগোচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বেসরকারি ক্ষেত্রকে উন্মুক্ত করে অ-সরকারি সংস্থাগুলির বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ঠিক আগের দিনই বেসরকারি প্রকল্পগুলিকে উৎসাহিত করতে প্রথম প্রস্তাব আহ্বান (কল ফর প্রোপোজাল) প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এই পদক্ষেপগুলি এবং চলমান প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভারত খুব শিগগিরই বৈশ্বিক মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে এবং এআই ক্ষেত্রে নেতৃত্ব অর্জনের লক্ষ্যেও কোনও আপস করা হবে না।