কলকাতা, ১৯ জানুয়ারি : এসএসসি মামলায় চাকরিহারাদের বয়সে ছাড় সংক্রান্ত কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ২০১৬ সালের পরীক্ষায় যোগ্য হলেও সুযোগ না পাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বয়সে ছাড় দেওয়ার কোনও নির্দেশ নেই।
২০১৬ সালে রাজ্যে শিক্ষক-অশিক্ষক নিয়োগে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হওয়ার কারণে সুপ্রিম কোর্ট গোটা প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল। এর ফলে রাতারাতি প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী চাকরি হারান। বাতিল হওয়া শূন্যপদে নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। এর পর, স্কুল সার্ভিস কমিশন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়াও আইনি জটিলতার মুখে পড়ে।
যে চাকরিপ্রার্থীরা ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুযোগ পাননি, তারা হাই কোর্টে গিয়ে বয়সে ছাড়ের আবেদন করেছিলেন। হাই কোর্টের নির্দেশে, যাঁরা ‘দাগি’ নন এবং যারা ২০১৬ সালে নির্বাচিত হননি, তাঁদের বয়সে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আদালতের যুক্তি ছিল, যারা পরীক্ষায় পাশ করতে পারেননি, তাদের কোনো তালিকা নেই, তাই তাদেরও বয়সে ছাড় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
এদিকে, এসএসসি-র আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং কিছু দিনের মধ্যেই যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ হবে। তবে মামলাকারীদের আইনজীবী শীর্ষ আদালতকে হাই কোর্টের রায় ব্যাখ্যা করে বোঝানোর চেষ্টা করেন, কেন যোগ্য, বঞ্চিত, ২০১৬ সালের পরীক্ষায় সুযোগ না পাওয়া প্রার্থীদেরও বয়সে ছাড় দেওয়া উচিত।
এ সময় বিচারপতি সঞ্জয় কুমার পর্যবেক্ষণ করেন, ‘‘আদালত কখনোই বলেছিল না যে, যোগ্য অথচ পরীক্ষায় পাশ না করা প্রার্থীদেরও বয়সে ছাড় দেওয়া হবে।’’ এর পর সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি করে। সব পক্ষকে নোটিস জারি করা হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানি হবে মার্চ মাসে।
এদিন, শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরও কিছু সময় ধরে সওয়াল চালিয়ে যেতে চান বামমনস্ক আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। তার আচরণে ‘বিরক্ত’ সুপ্রিম কোর্ট তাকে ভর্ৎসনা করে শৃঙ্খলারক্ষা করার বার্তা দেয়।

