নয়াদিল্লি, ৩ জুলাই, ২০২৫: প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী আজ ঘানার রাষ্ট্রপতি, ডঃ জন ড্রামানি মাহামার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জুবিলি হাউসে পৌঁছনোর পর রাষ্ট্রপতি মাহামা তাকে স্বাগত জানান। ঘানায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই সরকারি সফর তিন দশকের মধ্যে প্রথম।
দুই নেতার মধ্যে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয। তারা দুই দেশের এই সম্পর্ককে একটি সমন্বিত অংশীদারিত্বে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছেন। উভয় নেতা ভারত ও ঘানার মধ্যে উষ্ণ ও সময়োপযোগী সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, কৃষি, সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং দু’দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। তারা ঘানায় ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন। দুই নেতা প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা করেন। বিশেষ করে ভারত সমর্থিত পরিকাঠামো এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নয়ন সহযোগিতার অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করতে তারা অঙ্গীকারবদ্ধের কথাও এই বৈঠকে উচ্চারিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বাস্থ্য, ফার্মা, ডিজিটাল পাবলিক পরিকাঠামো, ইউপিআই এবং দক্ষতা বিকাশের ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ বিশ্বের উদ্বেগকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে ভারতের গভীর অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করেন এবং এই বিষয়ে ঘানার সংহতির জন্য ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী ঘানায় ১৫,০০০হাজার ভারতীয় সম্প্রদায়ের যত্ন নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি মাহামাকে ধন্যবাদ জানান।
দুই নেতা রাষ্ট্রসঙ্ঘের সংস্কারসহ পারস্পরিক স্বার্থের বৈশ্বিক বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী পহেলগামে সন্ত্রাসবাদী হামলার প্রেক্ষিতে ঘানার সমর্থন ও সংহতির জন্য রাষ্ট্রপতি মহামাকে ধন্যবাদ জানান। উভয় পক্ষ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াই জোরদার করতে সম্মত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ঘানার ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক পরিচয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে মেয়াদ এবং কমনওয়েলথ সেক্রেটারি-জেনারেল হিসাবে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচন। উভয় নেতা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়ন ও বিশ্ব শান্তির জন্য অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিনিধিদল পর্যায়ের আলোচনার পর সংস্কৃতি, মান, আয়ুর্বেদ ও ঐতিহ্যবাহী ওষুধ ও ক্ষেত্রে চারটি সমঝোতাপত্র এবং বিদেশ মন্ত্রকের মধ্যে যৌথ কমিশন ব্যবস্থার আদান-প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রপতি মহামায়া প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদীর সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করেন। সদয় আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শ্রী মোদী রাষ্ট্রপতি মহামাকে সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান।


















