মুম্বই, ৬ জুন: দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে গতিশীল করতে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া আজ শুক্রবার রেপো রেট ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৬ শতাংশ থেকে ৫.৫ শতাংশে নামিয়ে আনল। একই সঙ্গে, আরবিআই গর্ভনর সঞ্জয় মালহোত্রা ঘোষণা করেছেন, আরবিআই এখন থেকে তার নীতিগত অবস্থানকে ‘সাহায্যকারী’থেকে বদলে ‘নিরপেক্ষ’ করছে।
সঞ্জয় মালহোত্রা জানান, মুদ্রাস্ফীতি বর্তমানে ৪ শতাংশের নিচে নেমে ৩.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আরবিআইয়ের নির্ধারিত সীমারও নিচে। এই কারণে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় সুদ কমিয়ে চাহিদা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গভর্নর আরও জানিয়েছেন, নগদ রিজার্ভ অনুপাত ১০০ বেসিস পয়েন্ট কমানো হচ্ছে—সেপ্টেম্বর ৬, অক্টোবর ৪, নভেম্বর ১ ও নভেম্বর ২৯-এ ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে এই ছাঁটাই কার্যকর হবে। এই পদক্ষেপে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ₹২.৫ লক্ষ কোটি টাকা ঢুকবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ঋণের জোগান ও তরলতা বাড়াবে। কম রেপো রেট মানে ব্যাঙ্কগুলি আরবিআই থেকে কম সুদে ঋণ নিতে পারবে, ফলে সাধারণ মানুষের জন্য হোম লোন, পার্সোনাল লোনের মতো ঋণের হার কমবে। এতে ভোক্তাদের খরচ ও শিল্পের বিনিয়োগ বাড়বে, যা অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে।
তবে এই হার ছাঁটাইয়ের কার্যকারিতা নির্ভর করছে কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি এই সুবিধা গ্রাহকদের মধ্যে পৌঁছে দেয়, তার উপর। তাছাড়া, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করে আরবিআই টানা ১০০ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট কমিয়েছে। তাই এখন নীতিগত অবস্থানে পরিবর্তন এনে আরবিআই এটিকে ‘নিরপেক্ষ’ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে মুদ্রাস্ফীতি ও বৃদ্ধির ভারসাম্য বজায় রাখতে নজর রাখা যায়।
মালহোত্রা জানান, ভারতের কর্পোরেট, ব্যাঙ্ক ও সরকারের ব্যালান্স শিট এখন শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে। রফতানি ও আমদানি ক্ষেত্রও স্থিতিশীল। দেশের ডেমোগ্রাফি, ডিজিটালাইজেশন ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা ভারতের অর্থনীতিকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছে। রবির ফসল ঘিরে আগের অনিশ্চয়তা কেটে গিয়েছে। দ্বিতীয় অগ্রিম অনুমান অনুযায়ী, এ বছর রেকর্ড পরিমাণ গম উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পালসের উৎপাদনও বেড়েছে। শক্তিশালী খরিফ ফসলের আগমন খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি আনতে পারে।
আরবিআইয়ের মতে, সাধারণ মানুষের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত প্রত্যাশাও কমে গেছে, যা ভবিষ্যতের মূল্যস্ফীতিকে আরও স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। তেলমূল্যের পতনও মূল্যস্ফীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত বহন করছে। সর্বোপরি, আরবিআইয়ের এই পদক্ষেপ অর্থনীতিকে গতি দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, যদি তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।



















