রাঁচি, ২ জুন : লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টে এক নতুন আবেদন দাখিল করেছেন। এই আবেদনে তিনি চাইবাসার এমপি-এমএলএ বিশেষ আদালতের জারি করা জামিন অযোগ্য পরোয়ানা বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছেন। ২০১৮ সালের একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। তৎকালীন বিজেপির জাতীয় সভাপতি অমিত শাহের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধী আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, এমনই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, চাইবাসা আদালত ২২ মে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট জারি করেছে। কারণ তিনি আগের সমনগুলির প্রতি সাড়া দেননি। আদালত তাঁকে আগামী ২৬ জুন স্বশরীরে হাজিরা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। রাহুল গান্ধীর আইনজীবীরা হাইকোর্টে যুক্তি দিয়েছেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই দণ্ডবিধির ২০৫ ধারার অধীনে একটি আবেদন করেছেন যাতে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজিরা থেকে অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে। সেই আবেদন এখনও বিচারাধীন থাকার পরও জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করাকে আইনত অগ্রহণযোগ্য ও অসময়ে পদক্ষেপ বলে দাবি করা হয়েছে।
২০১৮ সালের ৯ জুলাই চাইবাসার বাসিন্দা প্রতাপ কাটিয়ার কর্তৃক দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা শুরু হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়েছিল, রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের একটি সভায় মন্তব্য করেছিলেন, “একজন খুনি কংগ্রেসে জাতীয় সভাপতি হতে পারে না। কংগ্রেস কর্মীরা কখনও একজন খুনিকে সভাপতি হিসেবে মেনে নেবে না — এটা শুধু বিজেপিতেই সম্ভব।” এই বক্তব্যকে অমিত শাহের প্রতি পরোক্ষ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়েছে।
প্রথমে এপ্রিল ২০২২-এ চাইবাসা আদালত একটি জামিনযোগ্য পরোয়ানা জারি করেছিল। কিন্তু রাহুল গান্ধী তাতে সাড়া দেননি। পরে ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ আদালত জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করে। তাঁর আইনি টিম তখন ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করে, যা ট্রায়াল কোর্ট খারিজ করে দেয়। এরপর রাহুল গান্ধী ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টে গিয়ে অস্থায়ী স্বস্তি পান। তবে মামলাটি এখনও বিচারাধীন থাকাকালীন নিম্ন আদালতের সাম্প্রতিক জামিন অযোগ্য পরোয়ানা তাঁকে ফের হাইকোর্টে যেতে বাধ্য করেছে বলে দাবি।

