ড্রাগন ফ্রুটের বাগান করে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ইন্দ্র কুমার সিনহা

ধর্মনগর, ৮ সেপ্টেম্বর: ধর্মনগর মহকুমার অন্তর্গত উত্তর গঙ্গানগর গ্রামে ইন্দ্র কুমার সিনহা তার নিজের দেড় কানি জমিতে ড্রাগন ফ্রুটের বাগান করে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ইন্দ্র কুমারের বাড়ি ধর্মনগরের কামেশ্বর এলাকায় হলেও, ব্যবসায়িক কারণে তিনি বেশিরভাগ সময় মনু এলাকায় বসবাস করেন। তার পরিবারে স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে।

উত্তর গঙ্গানগর ওয়ার্ড নং – ১ এ তার চার কানি জমি রয়েছে, যেখানে তিনি ড্রাগন ফ্রুটসহ আম ও পেয়ারার বাগান তৈরি করেছেন। উনার বাগানের নাম দিয়েছেন রামধনু এগ্রো ফার্ম।

ইন্দ্র কুমার জানান, লকডাউনের সময় ইউটিউব থেকে ড্রাগন ফ্রুটের বাগান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন এবং কিভাবে বাগান গড়ে তোলা যায়, তা শিখে নেন। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে তিনি ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থান থেকে ড্রাগন ফ্রুটের চারা সংগ্রহ করেন এবং বর্তমানে তার দেরকানি জমিতে তিন হাজারেরও বেশি ড্রাগন ফ্রুটের গাছ রয়েছে। তার বাগানে ১৩ ধরনের ড্রাগন ফ্রুটের প্রজাতি রয়েছে, এবং আরও চার-পাঁচটি প্রজাতি তিনি রোপণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

বর্তমানে তার বাগান থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচশ ওজনের ড্রাগন ফ্রুট উৎপন্ন হচ্ছে। উনার ধারণা আরো কিছুদিন পরে ড্রাগন ফ্রুটের ওজন এক কেজি ছাড়িয়ে যাবে |তিনি জৈব সার ব্যবহার করছেন যেমন কি গোবর, খৈইল, পোল্ট্রি বিট ইত্যাদি |
২০২৩ সালে তিনি প্রায় এক কুইন্টাল ড্রাগন ফ্রুট সংগ্রহ করেন, আর ২০২৪ সালে এখন পর্যন্ত তিন টন ড্রাগন ফ্রুট বাজারজাত করেছেন। তিনি আশা করছেন, এ বছর আরও চার থেকে পাঁচ টন ড্রাগন ফ্রুট বিক্রি করতে পারবেন। তার বাগানে বছরে প্রায় ছয়বার ড্রাগন ফ্রুট উৎপাদন হয়।

ড্রাগন ফ্রুট ছাড়াও তিনি ২০০টি আম গাছ লাগিয়েছেন, যেগুলিতে বর্তমানে ফল ধরেছে। তার বাগানে ১০ ধরনের আমের চারা রয়েছে, যেমন মিয়াজাকি, চাকাপাত, কিউজাই ইত্যাদি। ইন্দ্র কুমার জানান, তার এই বাগানে পাঁচজন শ্রমিক নিয়মিত কাজের সুযোগ পাচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে তিনি তার বাগানকে আরও বড় করতে আগ্রহী। বাগান থেকে অর্জিত অর্থ তিনি বাগানের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করছেন। এ পর্যন্ত তিনি ড্রাগন ফ্রুট বিক্রি করে চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা আয় করতে পেরেছেন। বর্তমানে তিনি বাজারজাত করছেন ধর্মনগর, মনু, এবং আগরতলায় |

বেকার যুবকদের উদ্দেশ্যে ইন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, সরকারি চাকরির পেছনে না ঘুরে, অল্প জায়গা থাকলে এবং পরিশ্রম করতে পারলে যে কেউ নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে ও সফল হতে পারে।