বাসন্তী, ২ ফেব্রুয়ারি (হি. স.) : এলাকায় বিজেপি দল করার অপরাধে এক বিজেপি কর্মীকে বেধড়ক মারধর ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে আক্রান্ত ওই বিজেপি কর্মী খোকন হালদার বাসন্তী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বৃহস্পতিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাসন্তী থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বাসন্তী থানার অন্তর্গত চুনাখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের বরিয়া পুকুর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা খোকন একজন সক্রিয় বিজেপি কর্মী। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের সময় তাঁর উপর হামলা হয়। বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট করা হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধেই অভিযোগ ছিল খোকনের। ঘটনার পর থেকে এলাকা ছাড়া হয়ে যান তিনি। এই বিষয়ে বাসন্তী থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও কোন লাভ হয়নি বলে দাবি ওই বিজেপি কর্মীর। পরে এই বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন তিনি। সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশে প্রশাসনের সাহায্যে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন।
অভিযোগ এলাকায় ফিরতেই পুনরায় তাঁর উপর হামলা শুরু হয়েছে। অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন তৃণমূলের নেতারা। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায়, গত ৩০ শে জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাজারে যাওয়ার সময় বাইকে করে এসে দুই তৃণমূল কর্মী আচমকাই তাঁর উপর হামলা চালায়। বুকে লাথি মারে, এমনকি তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলেও অভিযোগ খোকনের। বরাত জোরে প্রাণে বাঁচেন তিনি। এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার বাসন্তী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন খোকন। তিনি বলেন, “ এলাকায় ফেরার পর থেকেই আমার উপর নানা ধরনের অত্যাচার শুরু হয়েছে। তৃণমূলের নেতারা অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। রাজি হইনি বলে গত ৩০ শে জানুয়ারি আচমকা আমার উপর হামলা চালায়। গুলি করে খুনের চেষ্টা করে।” যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মন্ডল। তিনি বলেন, “ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তৃণমূল কংগ্রেসকে বদনাম করতে মিথ্যা অভিযোগ করছে বিজেপি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করে সত্য উদঘাটন করুক।” অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাসন্তী থানার পুলিশ। যদিও এই ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।



















