নয়াদিল্লি, ৬ জুন (হি. স.) দূষণ কমানোর প্রচেষ্টায় বিশ্বের কাছে নজির সৃষ্টি করতে চলেছে ভারত। আগামী ৫-৭ বছরের মধ্যে ডিজেল বাস বন্ধ করে, দেশের সমস্ত বাস বিদ্যুতচালিত হয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় পরিবহন মন্ত্রকের এমনই পরিকল্পনার কথা জানালেন কেন্দ্রীয় পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গডকড়ি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের ৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই পরিকল্পনার কথা জানাইয়ে নীতিন গডকড়ি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আত্মনির্ভর ভারতের ভাবনাতে জোর দিয়ে আগামিদিনে ভারতকে একটি অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্য স্থির করেছেন। ‘প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারত বদলে যাচ্ছে। আমরা একটি স্বর্ণযুগে প্রবেশ করছি,’ বলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘এখনই আমরা বৈদ্যুতিক ডবল ডেকার বাস চালাচ্ছি। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য শেগাঁও এবং মহুরের মতো তীর্থস্থানের রুটে সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক বাস চালানো হচ্ছে।’
শুধু তাই নয়, পরিবেশ রক্ষার আরও বিভিন্ন দিককে পরিবহন ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে নয়া প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করার পন্থা কাজে লাগানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। নীতিন গডকড়ি বলেন, ‘ইতিমধ্যেই দিল্লি রিং রোড এবং আহমেদাবাদ হাইওয়ে নির্মাণে বর্জ্য ব্যবহার করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতির উদ্দেশ্যে রেলের ওভার এবং আন্ডার ব্রিজের (আরওবি এবং আরইউবি) সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইলেকট্রিক বাসের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গও পিছিয়ে নেই। শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়ে সকলের নজর কেড়েছে রাজ্য। ২০২১ সালে দেশের বৃহত্তম ইলেকট্রিক বাসের সম্ভার নিয়ে এই তালিকায় বিশ্বে তৃতীয় স্থান লাভ করে কলকাতা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গত ২০১৯ থেকে ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্র্যান্সপোর্ট অথরিটি ইলেকট্রিক বাসের সংযোজন শুরু করে। বাসগুলি সম্পূর্ণ ভারতেই উত্পাদিত। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে শহরের রাস্তায় অন্তত ৫,০০০ বাস নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিভিন্ন দেশ পরিবেশ দূষণ কমানোর বিষয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু বাস্তবে সেই নিয়ে পদক্ষেপ করার নজির কমই দেখা যায়। সেখানেই ব্যাতিক্রম ভারত। আর্থিকভাবে উন্নত দেশও যা করতে পারেনি, তা-ই করে দেখাবে ভারত।



















