কলকাতা, ৬ জুন (হি. স.) : “পাকিস্তান ভাঙবেই। কেবল সময়ের অপেক্ষা। পাকিস্তানের এই দশায় সুবিধা হচ্ছে কাশ্মীরে শান্তি স্থাপনের কাজ।“ এই মন্তব্য করলেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি-র সর্বভারতীয় কর্মপরিষদের সদস্য কবীন্দর গুপ্ত। তাঁর দাবি, “পাক অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) ভারতের নিয়ন্ত্রণে আসবে।”
অভিযোগ ওঠে, কাশ্মীরে শান্তি ফিরছে না! ভারত জোর করে নাকি স্থানীয় বাসিন্দাদের কন্ঠরোধ করে রেখেছে? এ প্রশ্নের উত্তরে কবীন্দরবাবু ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-কে বলেন, “কিছুকাল আগে পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী বিলাবল ভুট্টো পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গেলে তাঁকে স্থানীয় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা কালো পতাকা দেখিয়ে ‘গো ব্যাক’ ধ্বণি দিয়েছিল। একটা চরম অস্থিরতা চলছে ওদেশে। সিন্ধ, করাচি, বালুচিস্তান— সব ভেঙে যাচ্ছে। ওই দেশ শাসন করছে সরকার, সেনা, আইএসআই— তিন পক্ষ। পাকিস্তান ভেঙে যাবে। তার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”
কবীন্দরবাবু বলেন, “ কাশ্মীরে ২১ মে থেকে তিন দিনের ‘জি টোয়েন্টি’ সম্মেলনে ৪০টি দেশের বেশ কয়েকশো প্রতিনিধি এসেছিলেন। তাঁরা দেখে গিয়েছেন কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়, তার ভিত্তি নেই। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বহুকাল আগেই বলেছিলেন কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্বাধীনতার পর সর্দার প্যাটেল বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যগুলোকে ভারতের নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন। কাশ্মীর নিয়ে পৃথক চুক্তি করে ঝামেলা বাঁধিয়েছিলেন জওহরলাল নেহরু। যার মাশুল আমাদের নানাভাবে গুনতে হয়েছে।“
প্রসঙ্গত, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) রাজধানী মুজাফ্ফরাবাদ। ১০ জেলা রয়েছে পিওকে-তে। রয়েছে ৩৩ তেহশিল এবং ১৮২টি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাউন্সিল। ১৩,৩০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত পাক অধিকৃত কাশ্মীর। এর মোট জনসংখ্যা ৫২ লাখ। ভারতীয় কাশ্মীরের পূর্ব অংশ, পাকিস্তানের পঞ্জাব, আফগানিস্তানের ওয়াখান কোরিডর এবং চিনের শিনজিয়াং অঞ্চলের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে পাক অধিকৃত কাশ্মীর।
পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নিজস্ব প্রেসিডেন্ট রয়েছে। মন্ত্রিগোষ্ঠীর সমর্থিত চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার প্রদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে থাকেন। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বর্তমান প্রেসিডেন্টের নাম মাসুদ খান। সিইও তথা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন পিএমএল-এন দলের রাজা ফারুখ হায়দার। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নিজস্ব বিধানসভা রয়েছে। স্বশাসিত বিধানসভা থাকলেও পাকিস্তান সরকারই তা নিয়ন্ত্রণ করে। পাকিস্তানের সেন্ট্রাল বোর্ড নয়, বরং আজাদ জম্মু-কাশ্মীর কাউন্সিলই প্রদেশের বাজেট ও রাজস্ব সম্পর্কিত বিষয় দেখভাল করে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হলেন আজম খান।
কবীন্দরবাবু বলেন, “পুরো কাশ্মীর আমাদের— লোকসভায় এই প্রস্তাব গৃহিত হয়েছে। ‘কাশ্মীর হামারা হ্যায়, সারেকা সারা’। পিওকে-ও আমাদের হবে।” কিন্তু শান্তি ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা কতটা পাওয়া যাচ্ছে? পুরসভার তিন বারের প্রাক্তন মেয়র কবীন্দরবাবু জানান, “কাশ্মীরে রাজাদের আমল থেকে রক্ষী হিসাবে এখানে গোর্খারা আছেন। সাফাইকর্মী হিসাবে আছেন বাল্মিকী সমাজ। ওঁরা এখন স্বীকৃতি পেয়েছেন। জমি কিনতে পারেন। ১৫ বছর থাকেই ‘ডোমিসাইল’-এর সুযোগ দিচ্ছি আমরা। মানুষ এখন শান্তি ধরে রাখতে চাইছে। বুঝতে পারছে, পর্যটন হোক বা পশুপালন, শীতবস্ত্র— শান্তি স্থায়ী না হলে শিল্প হবে না।”



















