কলকাতা, ৬ জুন (হি. স.) : ২০১৮-এর জুন থেকে জম্মু-কাশ্মীরে কোনও নির্বাচিত সরকার নেই। গত বছর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে জম্মু-কাশ্মীরের পুনর্গঠন সংক্রান্ত চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা পড়ে। এর পর থেকেই ভোট হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। কিন্তু এখনও সরকার কাশ্মীর নিয়ে ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। তাই সন্দেহের দোলাতেইএক বছরের ওপর দুলছে কাশ্মীরের ভোট।
জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখকে পৃথক দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণার পর জম্মু-কাশ্মীরের আসন পুনর্গঠনের দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছিল ‘ডিলিমিটেশন কমিশন’কে। ২০২২-এর ৪ জুন তারা চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেয়। সেক্ষেত্রে জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচনে কোনও বাধা নেই। তাহলে কেন ভোট হচ্ছে না? জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি-র সর্বভারতীয় কর্মপরিষদের সদস্য কবীন্দর গুপ্ত সোমবার রাতে এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমরা প্রস্তুত। ভোট ঘোষণা তো নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারে!”
মুখে যা দাবিই করুন না কেন কবীন্দরবাবু, কাশ্মীরে যে বিজেপি-র ভিত খুব দুর্বল, তা অনেকেই জানেন। তিনি নিজেও এই প্রতিবেদকের কাছে স্বীকার করেছেন “স্থানীয় দলগুলোই এখানে মুখ্য। যেমন ফারুখ আবদুল্লার ‘ন্যাশনাল কনফারেন্স’, মেহবুবা মুফতির ‘ডেমোক্রাটিক পার্টি’, সাজ্জাদ লোনের ‘পিপলস কনফারেন্স’। গোলাম নবী আজাদ তৈরি করেছেন ‘পিপলস আজাদ পার্টি’। ওরা বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়বে। আমরাও কৌশল ঠিক করছি।“
কী কৌশল? কবীন্দরবাবু বলেন, “সবটা তো এখনই বলা যাবে না! পাহাড়ি, তফশিলি জাতি, উপজাতি প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরও মাথায় রাখতে হচ্ছে। বিজেপি-র প্রতীকে কটা, কোন কোন আসনে প্রার্থী থাকবে, সেটা বড় কথা নয়। কিন্তু কিছু আসনে আমাদের সমর্থক প্রার্থী থাকবে নির্দল ও ‘ডামি’ হিসাবে। আমরাও ৯০টা আসনের মধ্যে ৫০টা পাব ধরে এগোনোর চেষ্টা করছি।”
পুনর্গঠন রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রথমবার জম্মু-কাশ্মীরের পাঁচটি লোকসভা আসনেই সমান সংখ্যক (১৮টি) বিধানসভা কেন্দ্র থাকছে। ন’টি আসন তপসিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষিত। পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার পর মোট ৯০টি বিধানসভা আসনের মধ্যে জম্মুর অংশে ৪৩টি এবং কাশ্মীরের জন্য ৪৭টি আসন থাকছে। প্রশাসনের নীচুস্তরে পাটওয়ার ব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে আসা এবং কাশ্মীরি অন্যান্য পরিযায়ীদের জন্য কয়েকটি আসন সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন।
জম্মু-কাশ্মীর পুনর্গঠন আইন’ অনুযায়ী, ২০১১-এর জনসংখ্যা ধরে আসন বিভাজনের কথা হয়েছিল। কিন্তু ডিলিমিটেন কমিশন জানায়, শুধু জনসংখ্যার বণ্টন নয়, জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের সব স্তরের প্রতিনিধিত্বের কথা মাথায় রেখেই আসনের বণ্টন করবে তারা। কয়েক মাস আগে ডিলিমিটেশন কমিশনের একটি খসড়া রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, যা নিয়ে প্রবল বিতর্ক হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, জম্মু-কাশ্মীরের সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক সংখ্যালঘুতে পরিণত করে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে কমিশন। সেই অনুযায়ী আসন পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জম্মু সফরে এসে জানিয়ে দেন, শীঘ্রই জম্মু-কাশ্মীরে বিধানসভা ভোট হবে। তাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল, বিরোধীদের আপত্তি উড়িয়ে আসন পুনর্বিন্যাস প্রায় সম্পূর্ণ করে ফেলেছে কমিশন।
ভোট হলে উন্নয়নই যে প্রচারে তুরূপের তাস হবে, সে ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। কবীন্দরবাবু বলেন, “বৈষ্ণোদেবী মন্দির থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে রেসাই পাহাড়ে লিথিয়ামের বিপুল সম্ভার মিলেছে। এ ছাড়া আছে ওই অঞ্চলে আছে নীলকান্তমনির (স্যাফায়ার) খনি। তবে ওগুলো কীভাবে ব্যবহৃত হবে তার আন্দাজ দিতে পারেননি কবীন্দরবাবু।
কবীন্দরবাবু বলেন, “স্থানীয় দলগুলো যতই পাকিস্তানে চলে যাব বলে হুমকি দিক, কেউ যাবে না! আমাদের সঙ্গেই কমবেশি সমঝোতায় আসতে হবে!” তাহলে কি কাশ্মীরে কৌশলের শেষ হাসিটা হাসবে বিজেপি? আপনিই মুখ্যমন্ত্রী হবেন? কবীন্দরবাবুর চকিত জবাব, “কেন নয়?”



















