কলকাতা, ৩ মার্চ (হি. স.) : ফল ঘোষণার পর থেকে সাগরদিঘিতে তৃণমূলের হারের নেপথ্যে সম্ভাব্য কারণগুলো নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। দলের একাংশের মতে, প্রাক্তন মহাসচিব তথা প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘটনাবলী জনমানসে একা দাগ ফেলেছে। তার কিছু প্রতিক্রিয়া পড়েছে ফলাফলে।
তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ দলের একাংশের দাবি, সাগরদিঘিতে ‘অনৈতিক’ জোটের জন্যই দলের পরাজয়। তবে দলের অন্দরে অনেকেই মনে করছেন, সেটাই একমাত্র কারণ নয়। বরং নিয়োগ তদন্তের অগ্রগতিতে একের পর এক নেতা, বিধায়ক গ্রেফতার হওয়ায় দলের ভাবমূর্তিতে যে ‘প্রভাব’ পড়েছে, সেটাও এই বিপর্যয়ের বড় কারণ।
দলের মুখপাত্র তথা রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ তা মানছেনও। পায়ে অস্ত্রোপচারের পর অসুস্থ কুণাল আপাতত হাসপাতালে। সেখান থেকেই শুক্রবার টেলিফোনে তিনি সংবাদমাধ্যকে বলেন, ‘‘পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতার এবং তার পরের ঘটনাবলি দলের যে ক্ষতি করেছে, তা অতীতে কখনও হয়নি। সাগরদিঘির ভোটের ফল খারাপ হওয়ার পিছনে সেটাই একমাত্র কারণ না হলেও অবশ্যই একটা কারণ।’’
শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি নিয়ে চলতি তদন্তে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া হয়েছে। আরও স্পষ্ট করে বললে তৃণমূল শিবির মনে করছে, দলের প্রাক্তন মহাসচিব তথা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বে থাকা অবস্থায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি, তাঁর ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসাবে পরিচিত অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে পাহাড়প্রমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনার বড় প্রভাব পড়েছে সাগরদিঘির ভোটে। প্রসঙ্গত, পার্থ তথা নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরে পশ্চিমবঙ্গে এটাই ছিল প্রথম কোনও নির্বাচন। আর সেখানে এই ভরাডুবিকে ‘অশনি সঙ্কেত’ বলেই মনে করছেন তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ।



















