কাটোয়া, ২৫ ডসেম্বর (হি.স.) : কাটোয়া স্টেশনে গুয়াহাটি কলকাতা স্পেশাল ট্রেনে এসি বগির নীচে ধোঁয়া দেখা যায়। যে ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। তবে ধোঁয়া থেকে অগ্নিকাণ্ডের কোনও ঘটনা ঘটেনি। এসি থ্রি টায়ারে বি ১ কোচের তলায় রবিবার সকালে ওই ধোঁয়া দেখা যায়। পরে ট্রেন দাঁড় করিয়ে ফায়ার এক্সটিংগাইশারের সাহায্যে তাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তারপর ট্রেনটির ফিটনেস পরীক্ষা করার পর সব ঠিক থাকায় তা কলকাতার দিকে রওনা করিয়ে দেওয়া হয়েছে। হতাহতের কোনও খবর না থাকলেও ট্রেন সফরে এমন বিপদে ব্যাপক আতঙ্কিত যাত্রীরা। কীভাবে আগুন লাগল, তা তদন্ত করে দেখবে কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, গুয়াহাটি থেকে কলকাতাগামী ০২৫১৮ গুয়াহাটি-কলকাতা স্পেশ্যাল ট্রেনটি কাটোয়া স্টেশনে ঢোকার আগে একটি এসি কামরা থেকে ধোঁয়া বেরতে দেখেন যাত্রীরা। গলগল করে ধোঁয়া দেখে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কাটোয়ায় পৌঁছে খবর পাঠানো হয় রেল পুলিশকে। স্টেশনে ট্রেনটি প্রায় দেড়ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করেন রেলকর্মীরা। তারপর ট্রেনটি ফের কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়। হতাহতের কোনও খবর না থাকলেও ট্রেন সফরে এমন বিপদে ব্যাপক আতঙ্কিত যাত্রীরা। কীভাবে আগুন লাগল, তা তদন্ত করে দেখবে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার রাত ৯টা নাগাদ গুয়াহাটি স্টেশন থেকে ছাড়ে স্পেশ্যাল ট্রেনটি । বিকেল ৩ টে সেটি চিৎপুর পৌঁছনোর কথা। কাটোয়া স্টেশনে ট্রেনটি ঢোকার নির্ধারিত সময় ১১ টা ৫১। সেখানে ঢোকার ঘণ্টা খানেক আগে থেকে বি১ এসি কোচের যাত্রীরা পোড়া পোড়া গন্ধ পান। বঙ্গাইগাঁওয়ের শঙ্কু গুপ্ত, গুয়াহাটির আকাশ মুখোপাধ্যায়রা জানাচ্ছেন, বি১ ০৭৫১০৫ কোচ থেকে পোড়া গন্ধ পেয়ে তাঁরা দরজা থেকে মুখ বাড়িয়ে দেখেন যে গলগল করে ধোঁয়া বেরচ্ছে। তখনও বোঝা যায়নি, ধোঁয়ার উৎস কী। তবে ধোঁয়া দেখে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
এরপর ট্রেনটি কাটোয়া স্টেশনে ঢুকলে তড়িঘড়ি রেল পুলিশকে খবর পাঠানো হয়। ততক্ষণে আতঙ্কিত যাত্রীরা কামরা ছেড়ে ছুটোছুটি শুরু করে দেন। প্রায় দেড়ঘণ্টা কাটোয়া স্টেশনে ট্রেনটিকে দাঁড় করিয়ে শুরু হয় আগুন নেভানোর কাজ। ১২ টা ১৬ থেকে ১.৩৬ পর্যন্ত ট্রেনটি কাটোয়ায় দাঁড়িয়েছিল।
কাটোয়ার ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার বর্ণালী বিশ্বাস জানিয়েছেন, ট্রেনের দুটি কামরার মধ্যে অল্টারেশনের জায়গায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আগুন লেগেছিল। স্পঞ্জ, পাউডার দিয়ে আগুন নেভানো হয়েছে। তারপর ট্রেনটির ফিটনেস পরীক্ষা করার পর সব ঠিক থাকায় তা কলকাতার দিকে রওনা করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিপদের আর কোনও আশঙ্কা নেই বলে যাত্রীদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি। তবে কী কারণে ওই অল্টারেশনের জায়গায় আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত করতে পারে রেল।

