নয়াদিল্লি, ২৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে সকলকে দৃঢ় সংকল্প ও সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর আওতায় বারাণসী থেকে বডনগরের উদ্দেশে যাত্রারত ‘সেবা যাত্রীদের’ সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময়ের সময় এই বার্তা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে স্বনির্ভর করে তুলতে হবে। সামনে নানা চ্যালেঞ্জ আসবে। তবে সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করার মতো মূল্যবোধ ও মানসিকতা দেশের মানুষের রয়েছে। তাই প্রতিদিন নতুন উদ্যম এবং সেবার চেতনা নিয়ে জাতীয় কল্যাণ ও জাতীয় সেবার কাজে এগিয়ে যেতে হবে। ‘জনসেবাই জাতীয় সেবা’ এই মন্ত্রে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের উন্নয়নের কেন্দ্রে জনসেবাকে রাখার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সেবা যাত্রীদের অনেক কিছু শেখার সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মেলামেশার মধ্য দিয়ে তাঁদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, রীতিনীতি, অভিজ্ঞতা ও নতুন চিন্তাধারা সম্পর্কে জানা সম্ভব।
তিনি বলেন, এই যাত্রায় যত বেশি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যাবে এবং তাঁদের কাছে গিয়ে তাঁদের জীবন ও অভিজ্ঞতা থেকে শেখা যাবে, ততই এই যাত্রা সফল হবে। দেশের বৈচিত্র্য, বিস্তৃতি ও সামগ্রিকতার মধ্যে এক বিশাল সম্পদ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরের জনজীবনকে সামনে রেখে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ শুরু হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের অংশ হিসেবেই ‘সেবা যাত্রা’ পরিচালিত হচ্ছে। যাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা দেশের বিভিন্ন রাজ্য, জেলা, মহকুমা, ব্লক ও গ্রামাঞ্চলের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করছেন।
বারাণসী ও বডনগরের মধ্যে দুই দিক থেকে মোটরসাইকেল যাত্রায় তরুণরা অংশ নিচ্ছেন। যাত্রাপথে বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি নানা সমাজসেবামূলক কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছেন তাঁরা।
এর মধ্যে রয়েছে পুকুর, মন্দির, বিদ্যালয়, উদ্যান, হাসপাতাল ও অন্যান্য জনসাধারণের স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কর্মসূচি। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময়, যুব সংলাপ, গ্রামসভা সংলাপ এবং গোসেবার মতো কর্মসূচিও নেওয়া হচ্ছে।
‘এক পেড় মা কে নাম’ কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণেও অংশ নিচ্ছেন সেবা যাত্রীরা। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও এলাকার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সেবা, যোগাযোগ, যুব অংশগ্রহণ, সামাজিক কল্যাণ, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং জনসম্পৃক্ততাকে একত্রিত করাই ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অন্যতম লক্ষ্য। আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত এই সেবা যাত্রা চলবে।



















